

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলাদেশের ডেইরী, দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ, আধুনিক কৃষি এবং খাদ্য নিরাপত্তা মানদণ্ডে নিউজিল্যান্ড বৈশ্বিক মানদন্ডের বিবেচনায় বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এ অবস্থায় এসব খাতে বাংলাদেশে নিউজিল্যান্ডের বিনিয়োগ প্রত্যাশা করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই)।
বুধবার (২০ মে) ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ এবং শ্রীলংকায় নিযুক্ত নিউজিল্যান্ডের অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেভিড পাইন-এর মধ্যকার সৌজন্য সাক্ষাত অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তিনি নিউজিল্যান্ডের প্রতি বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
বৈঠকে দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্রানীখাদ্য উৎপাদন, ডেইরি খামারের আধুনিকায়ন, গবাদিপশুর উন্নত জাত উন্নয়ন, মৎস, ভেটেরিনারি প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি বাংলাদেশকে সহায়তার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্যবসায়ীদের সংগঠন ঢাক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি তাসকীন আহমেদ।
এছাড়াও বাংলাদেশের কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ভোগ্যপণ্য এবং খাদ্যপণ্যের সাপ্লাইচেইন ব্যবস্থাপনা, পানি ও জালবায়ু ব্যবস্থাপনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রভৃতি খাতের উন্নয়নে নিউজিল্যান্ডের বেসরকারিখাতকে একক ও যৌথ বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান ঢাকা চেম্বার সভাপতি।
২০২৫ অর্থবছরে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৪৯৭ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের অধিকতর উন্নয়নে বাংলাদেশ হতে তৈরি পোষাক, চামড়াজাত পণ্য, তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক সেবা প্রভৃতি পণ্য আরো বেশি হারে আমদানির জন্য নিউজিল্যান্ডের উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তাসকীন আহমেদ।
নিউজিল্যান্ডের অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেভিড পাইন বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পরও বাংলাদেশি পণ্যের জন্য নিউজিল্যান্ড শুল্কমুক্ত ও অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা অব্যাহত রাখবে এবং এলডিসি পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি নিউজিল্যান্ড বিশেষ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে। তিনি আরও বলেন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে উভয় দেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ)-এর মতো বাণিজ্য চুক্তির যথেষ্ঠ সুযোগ রয়েছে এবং দুদেশের সরকারকে এলক্ষ্যে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে শুধু রপ্তানি বাজার বহুমুখীকরণই যথেষ্ট নয়, বরং প্রতিটি দেশের আমদানি বাজারও বহুমুখীকরণ করার উপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরী বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
হাইকমিশনার জানান, খাদ্যপণ্যের উচ্চমান ও আস্থা, কঠোর খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জিএমও (জেনেটিক্যাললি মডিফাইড অর্গানিজম) মুক্ত পণ্যের জন্য নিউজিল্যান্ড বিশ্বব্যাপী পরিচিত রয়েছে এবং বাংলাদেশে একটি স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য কাঠামো গড়ে তুলতে তার দেশ অত্যন্ত আগ্রহী বলে জানান।
ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, সহ-সভাপতি মো. সালিম সোলায়মান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।