

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার দেওহাটা-ধানতারা সড়ক এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সড়কের বেশ কয়েকটি স্থানে দীর্ঘদিন যাবত বেহাল দশার কারণে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে। খানাখন্দ ও সড়কজুড়ে কাঁদা থাকায় এই সড়কে চলাচল করতে গিয়ে ইতোমধ্যে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। এদিকে সড়কটির পাশেই তিন কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু থাকলেও সেটির দু’পাশে অসমাপ্ত কাজের জন্য ব্যবহার করতে পারছেন না চলাচলকারীরা। সেতুর কার্নিশে ফাটল এবং রড বেরিয়ে আসায় এর স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম শঙ্কা। ফলে সেতু থাকলেও তা সাধারণ মানুষের কোনো কাজে আসছে না। সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই অবকাঠামো কাজে না আসায় এবং সড়কের সংস্কার না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেওহাটা-ধানতারা সড়কটি এই অঞ্চলসহ পাশ্ববতী ধামরাই উপজেলার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে বিভিন্ন পেশাজীবী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়ীসহ হাজারো মানুষ ও শত শত যানবাহন চলাচল করে। পাশাপাশি ওই এলাকায় ইটভাটার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন গাড়ি চলাচলের কারণে সড়কটি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে দাবি স্থানীয়দের। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কোনো সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে ডোবায় পরিণত হয়, আর শুকনা মৌসুমে ওড়ে ধুলাবালি। সব ধরনের যান চলাচলের ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে এই সড়কটি। খানাখন্দের কারণে প্রতিনিয়ত রিকশা, ইজিবাইক ও সিএনজি উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে।
মীর দেওহাটা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা বুলবুল জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে অন্তত ২০-২৫ জন নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। শুধু তা ই নয় এই সড়ক ব্যবহারের ফলে অসুস্থ নারী-পুরুষ এমনকি সুস্থ্য মানুষও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। তিনি স্থানীয় এমপি ও জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন দ্রুত যেন এই সড়কটি ব্যবহার উপযোগী করে তোলা হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর কার্নিশে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে এবং অনেক জায়গায় সিমেন্টের আস্তরণ খসে ভেতরের মরিচা ধরা রড বেরিয়ে এসেছে। সেতুর দুপাশে ঢালাই না দেয়ার কারণে সেখানে গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন ও স্থানীয় জনগণ এর ওপর দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কের অবস্থা এতটাই খারাপ যে সুস্থ মানুষ এই পথে চললে অসুস্থ হয়ে যায়। আর কোটি কোটি টাকা খরচ করে যে সেতু বানানো হলো, তা এখন আমাদের কোনো কাজেই আসছে না। সেতুর রড বের হয়ে গেছে, ফাটল ধরেছে। এটা তো সেতু নয়, যেন একটা ফাঁদ! আমরা দ্রুত এই সড়ক সংস্কার এবং সেতুর দুর্নীতির তদন্তসহ পুনঃনির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয় যানবাহন চালকেরা জানান, এই সড়ক দিয়ে গাড়ি চালানো এখন জীবন ঝুঁকির ব্যাপার। গাড়ির পার্টস প্রতিনিয়ত ভেঙে যায়, অ্যাক্সিডেন্ট তো নিত্যদিনের সঙ্গী। আর সেতুর ওপর দিয়ে গাড়ি ওঠানো তো দূরের কথা, হেঁটে যেতেও ভয় লাগে।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে দেওহাটা-ধানতারা সড়কটির কার্পেটিং ও সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হোক এবং ত্রুটিপূর্ণ সেতুর বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। অন্যথায় এই জনদুর্ভোগ আরও চরম আকার ধারণ করবে।
উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুল সাজ রিজন বলেন, আমরা বিষয়টি ইতোমধ্যে জেনেছি। এটি চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঠিকাদার কাজটি বন্ধ রাখায় আমরা তাকে শোকজও করেছি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ইউনিব্লকের মাধ্যমে সেতুর দুপাশের বাকি কাজ সম্পন্ন করা হবে।