

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


টাঙ্গাইল মির্জাপুর উপজেলার বাজার গুলোতে মিলছেনা এলপি গ্যাস সিলিন্ডার। দোকানে দোকানে হন্যে হয়ে ঘুরেও গ্যাস পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। অনেকে বেশি দামে গোপনে এলপি গ্যাস কিনতে পারলেও তা যথেষ্ট নয়। হঠাৎ করেই বাজার থেকে এলপি গ্যাস উধাও হয়ে যাওয়ায় ডিলার ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বেশি লাভের আশায় কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ তুলেছেন ভোক্তারা।
তাদের ধারণা, কোম্পানির ডিলার ও ব্যবসায়ীরা মিলে সিন্ডিকেট করে গ্যাসের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন। এই সিন্ডিকেট ভাঙতে পারলেই বাজারে গ্যাস পাওয়া যাবে বলে তাদের বিশ্বাস।
অপরদিকে সিন্ডিকেট করে গ্যাস সিলিন্ডার মজুতের অভিযোগ অস্বীকার করে ডিলার ও ব্যবসায়ীরা জানান, কোম্পানিগুলো চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস দিতে পারছে না ডিলারদের। বিদেশ থেকে তরল গ্যাস না আসার কারণেই নাকি কোম্পানিগুলো এলপিজি সিলিন্ডার বাজারজাত করতে পারছে না।
বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারগুলোতে যমুনা, টোটাল, ইউনিক, বসুন্ধরা, ডেল্টা, ফ্রেস, ভিন,ইউনিট, পেট্রোমেক্স, জি গ্যাস ও ওমেরা নামের গ্যাস সিলিন্ডার এতদিন বেচাকেনা হতো। কিন্তু হঠাৎ করেই এসব গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে কোম্পানিগুলো। কয়েক মাস আগে থেকে অনেক কোম্পানি ডিলারদের কাছে গ্যাসের সিলিন্ডার সরবরাহ কমিয়ে দেয়। এখন কিছু গ্যাস সরবরাহ বন্ধ, কিছু গ্যাস সিলিন্ডার বন্ধ না হলেও সরবরাহ কম
এ ছাড়া পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ডিলাররা খুচরা দোকানে সিলিন্ডার সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে বাজারে গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। ভোক্তাদের অনেকে মনে করছেন, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় একসঙ্গে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার সংকট দেখা দেওয়ায় বিষয়টি আর স্বাভাবিক সংকট নয়, বরং পরিকল্পিত কারসাজি।
ভুক্তভোগী মাসুদবগাজী জানান, বাজারগুলোতে বেশির ভাগ দোকানেই এলপি গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। দিনের পর দিন ক্রেতারা দোকানে ঘুরে ঘুরে শুনছেন ‘গ্যাস নাই সাপ্লাই বন্ধ, কবে গ্যাস আসবে তারা জানে না’। এভাবে চলছে বেশ কিছুদিন ধরে।
আনাইতারা ইউনিয়নের গৃহিণী রহিমা বেগম বলেন,গ্যাস সংকট তাদের রান্নাঘর অচল করে দিয়েছে। কেউ বাধ্য হয়ে মাটির চুলা জ্বালাচ্ছেন, কেউ কাঠখড়ি সংগ্রহ করছেন। আধুনিক এলাকার মানুষ ফিরে যাচ্ছে আদিম ব্যবস্থায় যা অত্যন্ত লজ্জাজনক। একজন ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গ্যাস নেই, গ্যাস নেই বলে ঘোরায় বিক্রেতারা। আবার কোথাও গ্যাস সিলিন্ডার থাকার কথা শুনে গিয়ে দেখেন দাম এমন যে কিনতেই ভয় লাগে।
ভাই ভাই ইন্টারন্যাশনাল এর মালিক লাজলু বলেন, সিন্ডিকেটের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। কোম্পানি থেকে পাওয়া যাচ্ছে না, এ কারণেই বাজারে গ্যাস নেই। চলতি মাসের ১ থেকে ১৪ তারিখ পর্যন্ত তাঁর বিক্রয় কেন্দ্রে প্রয়োজন ছিল ১ হাজার ৫ শ গ্যাস সিলিন্ডার। সেখানে কোম্পানি দিয়েছে ১৭৭টি। কোম্পানি গ্যাস দিচ্ছে না, এ কারণে তারাও দোকানে সরবরাহ করতে পারছেন না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া ইয়াসমিন জানান, আমরা প্রতিনিয়ত মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করছি। যদি কেউ মজুত করে গোপনে বেশি দামে বিক্রি করে থাকে, প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন