শনিবার
১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পিঠার সুবাসে মুখর টাঙ্গাইলের পৌর উদ্যান

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু
expand
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু

শীতের আমেজে টাঙ্গাইলের পৌর উদ্যানে অনুষ্ঠিত হলো দিনব্যাপী পিঠা উৎসব। শনিবার সকাল থেকেই উৎসব ঘিরে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও নানা বয়সী মানুষের ভিড় জমতে থাকে উদ্যানে।

ভাপা, দুধ চিতই, চাকি, পুলি, কুসুমসহ নানান ঐতিহ্যবাহী পিঠার সুবাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো উদ্যন এলাকা। পিঠার স্বাদ, গল্প আর আড্ডায় পুরো আয়োজন পরিণত হয় এক ধরনের সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়।

পিঠা উৎসবকে ঘিরে বিশেষভাবে উৎসাহী ছিলেন তরুণ-তরুণী ও শিক্ষার্থীরা। অনেকে জানান, শহরে নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন হলে শীতকালীন লোকজ সংস্কৃতির প্রতি তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ আরও বাড়বে।

উৎসবে অংশ নিতে আসা শাহীন স্কুলের শিক্ষার্থী সামিহা বলেন,এতো ধরনের পিঠা যে আছে এবং সবগুলোর নাম আলাদা এটা আগে জানতাম না। পিঠা চেখে দেখার পাশাপাশি কী দিয়ে হয় এবং কোথা থেকে এসেছে এমন অনেক কিছু জানতে পারছি।

অভিভাবক রওশন আরা বলেন, শীতের পিঠা তো গ্রামেই বেশি হয়। শহরে আমাদের বাচ্চারা এসব খুব একটা দেখে না। এই উৎসব দেখে ভালো লাগছে, বাচ্চারা শিখছে এবং মজা করছে।

শাহীন শিক্ষা পরিবারের চেয়ারম্যান মাছুদুল আমীন শাহিন বলেন, শীতকালীন পিঠা উৎসব বাংলাদেশের গ্রামীণ সংস্কৃতির এক ঐতিহ্যবাহী অংশ। সময়ের পরিবর্তনে শহুরে জীবনে সেই সংস্কৃতি অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। তাই নতুন প্রজন্মের কাছে শেকড়ের ঐতিহ্য তুলে ধরতেই এই আয়োজন।

আরও বলেন বলেন,পাঠ্যজীবনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়ানো জরুরি। আমাদের উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের বইয়ের বাইরে লোকজ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সচেতন করা

স্টল মালিকরা বলেন, পিঠার আইটেম নির্বাচন ও স্টল সাজাতেই তাদের বিশেষ প্রস্তুতি ছিল। উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন ধরনের পিঠার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করানো।

স্টল মালিক হাসান মিয়া বলেন, অনেকেই প্রথমবার কুসুম বা দুধচিতই পিঠার নাম শুনছে। বাচ্চাদের উৎসাহ দেখে বুঝছি এ ধরনের আয়োজন হলে তারা শুধু খাবে না, বরং জানবেও।

আরেক স্টল মালিক শহিদুল ইসলাম বলেন,শহরে এতো পিঠা পাওয়া যায় না। এখানে আমরা ১০-১২ রকমের পিঠা এনেছি। বিক্রি ভালো, আর বাচ্চাদের আগ্রহ আরও বেশি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, আমাদের কৃষিভিত্তিক সংস্কৃতিতে পিঠা অন্যতম ঐতিহ্য। কিন্তু অনেক শিক্ষার্থী এসব সম্পর্কে জানে না। এই উৎসবের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি জানতে পারবে এটাই বড় অর্জন।

তিনি আরও বলেন, পিঠা উৎসব শীতের আনন্দই বাড়ায় না, বরং পরিবার সমাজ বিদ্যালয়ের মধ্যে যোগাযোগও বাড়ায়।

দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল শুধু খাবার নয়, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র প্রদর্শনী ও কৃষিজ পণ্যের ছোট প্রদর্শনীও। পিঠার সুবাসের সঙ্গে জমে ওঠে গল্প ও হাসির আড্ডা। উৎসব জুড়ে ভিড় ছিল শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের।

এক দর্শনার্থী বলেন, আজকে শহরে গ্রামের মতো পরিবেশ পেয়েছি। বাচ্চারা আনন্দ করেছে, আমরা নস্টালজিয়া পেয়েছি।

উৎসব সন্ধ্যার দিকে শেষ হলেও উদ্যান এলাকা দীর্ঘসময় মুখর ছিল দর্শনার্থীদের পদচারণায়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X