

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইউনিয়ন পরিষদ দেশের নাগরিকদের জন্মসনদ, মৃত্যুসনদ, নাগরিকসনদ, ওয়ারিশান সনদসহ বিভিন্ন ধরনের প্রত্যয়নপত্র দিয়ে থাকে। তথ্য অনুযায়ী, এসব সনদে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্যরা শনাক্তকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
কিন্তু সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নে এই নিয়ম মানা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও সাবেক চেয়ারম্যান এনামুল হক জানিয়েছেন, রেজাউল মেম্বারের শনাক্তেই তিনি প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন। তবে সাবেক মেম্বার রেজাউল এ ধরনের শনাক্ত দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।
তথ্য অনুযায়ী, বহুলী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নেওয়া একটি ওয়ারিশান প্রত্যয়নপত্রের মাধ্যমে আব্দুর রশিদ নামে এক স্কুলশিক্ষক প্রায় ১০ বছর ধরে সরকারি চাকরি করছেন। যদিও অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষক আব্দুর রশিদের বাড়ি জামতৈল ইউনিয়নে।
এ বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান এনামুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রেজাউল মেম্বারের শনাক্তেই তিনি প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন।
তবে সনদে শনাক্ত দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন সাবেক মেম্বার রেজাউল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনামুল হক আরও বলেন, ‘আপনি যা খুশি করেন, আপনি মামলা করলে করেন।’
অন্যদিকে সাবেক মেম্বার রেজাউল বলেন, ‘আমি শনাক্ত দেইনি। আমার কাছে এই পরিবার এসেছিল। এদের বাড়ি এই এলাকায় নয়। এরা অত্যন্ত ধূর্ত পরিবার।’
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়ন থেকে ২০১৪ সালে সাবেক চেয়ারম্যান এনামুল হকের স্বাক্ষরিত একটি প্রত্যয়নপত্র নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নেন শিক্ষক আব্দুর রশিদ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এ সময় তিনি তার খালু মুক্তিযোদ্ধা কাশেম আলীকে পিতা দেখিয়ে চাকরি নেন।
এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা কাশেম আলীর কন্যা আমেনা খাতুন বলেন, ‘আমি পিতা কাশেম আলীর একমাত্র কন্যা। আমার আর কোনো ভাই-বোন নেই। কতিপয় দুষ্কৃতকারীর সহায়তায় তারা এই সনদ নিয়েছে। আমি এদের শাস্তি চাই।’
এ সময় তিনি তার পিতা কাশেম আলীর ওয়ারিশান সনদের একটি কপি অনুসন্ধানকারী দলের হাতে তুলে দেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম জানান, ‘এমন ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সচেতন মহলের প্রশ্ন, কীভাবে এমন একটি সনদ সাবেক চেয়ারম্যান এনামুল হক দিয়েছেন, তা তদন্ত করা জরুরি। সনদ দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেন হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের অভিযোগ, এভাবে সনদ দেওয়ার ঘটনায় সাবেক চেয়ারম্যান এনামুল হকের যে দাপট প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে, তা সমাজের জন্য চরম অশনিসংকেত। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান সচেতন মহলের প্রতিনিধিরা।


