

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে সংঘর্ষে জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলায় শেরপুর-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলসহ ৪০ জন নেতা-কর্মীকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শেরপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে মামলার বাদী ও নিহতের স্ত্রী মারজিয়া লিখিত বক্তব্য পাঠ করে এই ক্ষোভ জানান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ মাহমুদুল হক রুবেলের নির্দেশে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা তার স্বামী মাওলানা রেজাউল করিমকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডে পরিবার ও এলাকাবাসী এখনো গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে। অথচ হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত আসামিদের হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।
তিনি বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে তিনি এই হত্যার ন্যায়বিচার চান। ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পরও কাদের ইশারায় খুনের আসামিরা জামিন পেল; সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। একইসাথে এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মারজিয়া। তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে অবিলম্বে উচ্চ আদালতে আপিল করে জামিন বাতিলের দাবি জানান। অন্যথায় এটিকে অন্যায়ের সাথে আপস হিসেবে দেখা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মারজিয়া বলেন, শহীদ মাওলানা রেজাউল করিমের রক্ত বৃথা যেতে পারে না, ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তাদের প্রতিবাদ চলবে।
জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান বলেন, আগাম জামিনে ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তাঝুঁকি বেড়েছে। পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনে জামিনে থাকা এসব আসামি ভোটে প্রভাব বিস্তার করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান, নিহতের বাবা আব্দুল আজিজ, সন্তানসহ জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মী।
এর আগে, সোমবার আগাম জামিন চেয়ে করা আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লা ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলসহ ৪০জন নেতাকর্মীকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ জানুয়ারি ঝিনাইগাতী মিনি স্টেডিয়ামে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের প্রার্থীদের ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম।
পরে তাকে ময়মনসিংহে নেওয়ার পথে সেদিন রাতেই মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ৩০ জানুয়ারি রাতে নিহতের স্ত্রী মারজিয়া ঝিনাইগাতী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলকে প্রধান আসামি করে নামীয় ২৩১ জন ও অজ্ঞাতনামা আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়।
মন্তব্য করুন
