

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই যুবকের ডোপ টেস্টে মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসকেরা বলছেন, আটকের আট দিন পর প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করায় এমন ফল আসা স্বাভাবিক। কারণ, ইয়াবায় থাকা এমফিটামিন সাধারণত প্রস্রাবে সর্বোচ্চ পাঁচ থেকে সাত দিন পর্যন্ত শনাক্ত করা যায়। এরপর তা আর পরীক্ষায় ধরা পড়ে না।
মাদক সেবনের বিষয়ে আরও প্রমাণ সংগ্রহের জন্য ওই দুই যুবকের চুলের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই রাতেই মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ওই চারজনকে হত্যা করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার আগে ও পরে ইয়াবা সেবনের কথা তারা স্বীকার করেছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারের অষ্টম দিনে গত রোববার (৩০ আগস্ট) মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের ডোপ টেস্টের জন্য প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
পরে সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে চিকিৎসকের প্রতিবেদন পাওয়ার পর রংপুর মহানগর ডিবির উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, দুই যুবকের ডোপ টেস্টে মাদকের অস্তিত্ব মেলেনি।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. রাশেদুল হক বলেন, ‘গ্রেপ্তারের সাত দিনের বেশি সময় পর নমুনা সংগ্রহ করায় ডোপ টেস্ট নেগেটিভ আসাটাই স্বাভাবিক। যেহেতু এরা সাত দিনের বেশি সময় ধরে আটক অবস্থায় আছে, তাই মাদক গ্রহণ করতে পারে নাই। বিধায় এই টেস্টটা নেগেটিভ আসছে। এটা আসাটাই স্বাভাবিক, কারণ সাত দিনের বেশি হলে এটা প্রস্রাবের ভেতরে পাওয়া যায় না।’
তার মতে, আটকের পরপরই নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা উচিত ছিল।
এদিকে ডিবির উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, এত দিন পর প্রস্রাব পরীক্ষায় আগে সেবন করা মাদকের উপস্থিতি সাধারণত শনাক্ত হয় না। ফলে পরীক্ষার ফল নেগেটিভ হওয়ার অর্থ এই নয় যে, অভিযুক্তরা হত্যাকাণ্ডের আগে বা পরে মাদক সেবন করেননি।
তিনি জানান, মাদক সেবনের বিষয়ে আরও প্রমাণ সংগ্রহের জন্য অভিযুক্ত দুই যুবকের চুলের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করা হবে।


