বুধবার
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে চীনা নাগরিকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হলো বৈশাখী উৎসব

রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২০ পিএম
রাজশাহীতে চীনা নাগরিকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হলো বৈশাখী উৎসব
expand
রাজশাহীতে চীনা নাগরিকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হলো বৈশাখী উৎসব

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভিন্নমাত্রা। স্থানীয়দের পাশাপাশি চীনের নাগরিকদের অংশগ্রহণে এবারের পহেলা বৈশাখ উৎসব হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও বর্ণিল।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে গোদাগাড়ী উপজেলা চত্বরে আয়োজিত নববর্ষ উদযাপনে অংশ নিতে উপস্থিত হন কয়েকজন চীনা নাগরিক। পান্তা-ইলিশের স্বাদ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তারা বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খাবারের সঙ্গে নিজেদের পরিচিত করেন। উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের উপস্থিতি ছিল সবার নজরকাড়া।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অংশগ্রহণকারী এসব চীনা নাগরিক রাজশাহী ওয়াসার সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট প্রকল্পে কর্মরত। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে চীনের হুনান কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি।

অনুষ্ঠানে চীনা নাগরিকদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্পের ডেপুটি ম্যানেজার ইয়াসির আরাফাত। তিনি জানান, চীনা কর্মীরা শুরু থেকেই বাংলা নববর্ষ উদযাপন কাছ থেকে দেখার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন। সেই আগ্রহ থেকেই তারা এ আয়োজনে অংশ নেন।

সকাল সোয়া ৯টার দিকে আনন্দ শোভাযাত্রা শুরুর আগেই তারা উৎসবের আবহে মিশে যান। কেউ আদিবাসীদের নৃত্য উপভোগ করেন, কেউ ছবি তোলেন, আবার কেউ ভিডিও ধারণে ব্যস্ত ছিলেন। ঢাক-ঢোল ও একতারার তালে তাদের উচ্ছ্বাস নজর কাড়ে উপস্থিত সবার।

ওয়াসা প্রকল্পের পরিচালক মি. জু বলেন, বাংলাদেশের নববর্ষ উৎসব অত্যন্ত প্রাণবন্ত। এখানকার মানুষ অতিথিপরায়ণ ও বন্ধুসুলভ। তিনি আরও বলেন, চীনে নববর্ষ উদযাপনে আতশবাজির ব্যবহার বেশি হলেও বাংলাদেশের বৈশাখে লোকজ সংস্কৃতির উপস্থিতি বেশি।

গোদাগাড়ী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিদেশি নাগরিকদের এ আয়োজনে আমন্ত্রণ জানানো হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুল ইসলাম বলেন, চীনা নাগরিকরা বাংলাদেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার আগ্রহ থেকেই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।

তিনি জানান, আনন্দ শোভাযাত্রার মাধ্যমে লোকশিল্প, সাংস্কৃতিক চেতনা ও স্বাধীনতার মূল্যবোধ তুলে ধরা হয়। শোভাযাত্রায় ছিল প্রতীকী মুখোশ, গ্রামীণ জীবনের নানা অনুষঙ্গ ও লোকজ উপকরণ—যা উপভোগ করেন বিদেশি অতিথিরাও।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুস সাদত রত্ন বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব। ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে এ উৎসবের মূল চেতনা অসাম্প্রদায়িকতা। বিদেশি নাগরিকদের অংশগ্রহণ আমাদের সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, অংশগ্রহণকারী চীনা নাগরিকরা গত তিন বছর ধরে রাজশাহীতে কর্মরত। এবারই প্রথম তারা সরাসরি পহেলা বৈশাখ উদযাপনের অভিজ্ঞতা লাভ করলেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন