

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজবাড়ীর কালুখালীতে জামায়াতের কর্মী আসাদুল ইসলাম (২৪) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা সহ এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধারের টাকা পরিশোধ না করাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজবাড়ী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল হক।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- রাজবাড়ী জেলার কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের সূর্যদিয়া গ্রামের কাউসার শেখের ছেলে মো. মিজান শেখ (২৪), পশ্চিম রতনদিয়া গ্রামের আসমত মণ্ডলের ছেলে মো. আনোয়ার মণ্ডল (৪৪) এবং সূর্যদিয়া গ্রামের শাহাজউদ্দীনের ছেলে মো. আব্দুল করিম মোল্লা (৩৫)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের সূর্যদিয়া মাদ্রাসার পেছনের একটি পাটক্ষেত থেকে নিখোঁজ যুবক বিল মানুষমারি গ্রামের শাহজাহান মণ্ডলের ছেলে মো. আসাদুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা শাহজাহান মণ্ডল বাদী হয়ে কালুখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) দেব্রত সরকারের নেতৃত্বে কালুখালী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল মঙ্গলবার (১৬ জুন) যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিন আসামি মো. মিজান শেখ, মো. আনোয়ার মণ্ডল ও মো. আব্দুল করিম মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তে জানা যায়, প্রায় চার মাস আগে ভুক্তভোগী আসাদুল ইসলাম আসামি মিজান শেখের কাছ থেকে ৬৮ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়ে সেই টাকা পরিশোধ করতে না পারায় তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মিজান শেখ ও তার সহযোগীরা আসাদুলকে হত্যা করে। পরে হত্যার আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল হক বলেন, “গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে আসামি মিজান শেখ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় বিজ্ঞ আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”