সোমবার
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজবাড়ীতে শিক্ষার্থীদের ১৬ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নার্সিং কোচিং সেন্টারের মালিক

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
নার্সিং কোচিং সেন্টার
expand
নার্সিং কোচিং সেন্টার

রাজবাড়ীতে শিক্ষার্থীদের প্রায় ১৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন ‘নিউরন নার্সিং ভর্তি কোচিং সেন্টার’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। এ ঘটনায় গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাজবাড়ী সদর আমলী আদালতে ৪২০/৪০৬ ধারায় কোচিং সেন্টারের মালিক মেহেদী হাসান চিশতি ও অজ্ঞাতনামা ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন শিক্ষার্থী মাহফুজা আক্তার মিতু (১৮)। মামলার সি.আর. নম্বর ১৫৮/২০২৬।

আদালত দণ্ডবিধির ৪২০/৪০৬ ধারায় অভিযোগ আমলে নিয়ে মামলাটি তদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে নার্সিংয়ের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, বিসিএস, মেডিকেল ও ডেন্টাল, ক্যাডেট কলেজ ভর্তি, স্পোকেন ইংলিশ, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির কোচিং করানো হতো। তবে প্রায় এক মাসের বেশি সময় ধরে সব কার্যক্রম বন্ধ রেখে প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে আত্মগোপনে গেছেন। এতে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

মামলার বাদী মাহফুজা আক্তার মিতু জানান, তিনি সহ প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী রাজবাড়ী শহরের পান্না চত্বরে নান্নু টাওয়ারের তৃতীয় তলায় অবস্থিত নিউরন নার্সিং ভর্তি কোচিং সেন্টারের বিজ্ঞাপন দেখে ভর্তি হন। প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও পরিচালক মেহেদী হাসান চিশতি তাদের জানান, প্রতি শিক্ষার্থীর ভর্তি ফি ৮ হাজার ২০০ টাকা এবং সম্পূর্ণ টাকা অগ্রিম পরিশোধ করতে হবে।

কোচিং কর্তৃপক্ষ জানায়, সপ্তাহে পাঁচ দিন ক্লাস, এক দিন পরীক্ষা এবং প্রতি মাসে মডেল টেস্ট নেওয়া হবে। মোট আট মাস কোচিং চলবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়। এসব আশ্বাসে বিশ্বাস করে ২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট, ২৮ অক্টোবর ও ১১ নভেম্বর বিভিন্ন সময়ে তারা ভর্তি হন।

মাহফুজা আক্তার অভিযোগ করেন, শুরুতে কয়েক দিন ক্লাস নেওয়ার পর প্রায় ১০ দিনের মাথায় পরিচালক ও তার সহযোগীরা খারাপ আচরণ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে ক্লাস বন্ধ করে দেন। ভর্তির সময় যে বই, প্রশ্নব্যাংক ও মডেল টেস্ট বই দেওয়ার কথা ছিল, তার পরিবর্তে পুরোনো বই সরবরাহ করা হয়।

তিনি আরও জানান, পরীক্ষার কথা বলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাথাপিছু ২০০ টাকা নেওয়ার পর থেকেই কোচিং সেন্টার সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অভিভাবকরা যোগাযোগ করলে মালিক ক্লাস নেবেন না এবং টাকা ফেরত দেবেন না বলে জানান।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টার দিকে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা কোচিং সেন্টারের মালিকের সঙ্গে দেখা করে ক্লাস চালুর দাবি জানালে তিনি তা অস্বীকার করেন এবং টাকা ফেরত দিতেও অস্বীকৃতি জানান। এ সময় তিনি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ ওঠে। এমনকি টাকা চাইলে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।

মাহফুজা আক্তার মিতু বলেন, “কোচিং সেন্টারের মালিক মেহেদী হাসান চিশতি আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করে ক্লাস, পরীক্ষা, মডেল টেস্ট ও প্রশ্নব্যাংক সরবরাহ না করে প্রায় ১৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে উধাও হয়েছেন।”

৫১তম বিসিএস প্রস্তুতির জন্য ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস মীম বলেন, “আমি এককালীন ৯ হাজার টাকা দিয়ে তিন মাস আগে ভর্তি হয়েছিলাম। কিন্তু গত এক মাস ধরে কোনো ক্লাস হচ্ছে না। কোচিং সেন্টারে গেলে তালাবদ্ধ দেখা যায়। আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহরিয়ার জামান রাজিব বলেন, “নিউরন নার্সিং কোচিং সেন্টারের মালিকের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হলে আদালত তা আমলে নিয়ে রাজবাড়ী সদর থানাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।”

রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শহরের পান্না চত্বরের নান্নু টাওয়ারের তৃতীয় তলায় গিয়ে দেখা যায়, কোচিং সেন্টারটি তালাবদ্ধ। এ বিষয়ে মালিক মেহেদী হাসান চিশতির বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X