বৃহস্পতিবার
০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

থার্টি ফার্স্ট নাইটে সংঘর্ষ, শিশু গুলিবিদ্ধ

পাংশা (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম
সিফাত (১২)
expand
সিফাত (১২)

থার্টি ফার্স্ট নাইটের মধ্যরাতে রাজবাড়ী শহরে বালুমহলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হয়েছে সিফাত (১২) নামে এক শিশু।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার পৌর শহরের বিনোদপুর কলেজপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত শিশুর বিনোদপুর এলাকার মোঃ শফিকুল ইসলামের জমজ দুই ছেলের একজন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, বালুমহলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিনিময়ের একপর্যায়ে ছোড়া একটি গুলি এসে শিশুটির পেটে লাগে।

গুলিটি সিফাতের পেটের উপরের অংশে, বক্ষপিঞ্জরের ঠিক নিচে ঢুকে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করে। এতে শিশুটির প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় এবং সে ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে তার মা আশপাশের মানুষের সহায়তায় সিফাতকে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোঃ নুরুল আজম শিশুটিকে দ্রুত পরীক্ষা করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. রাজীব দে সরকারকে ডেকে আনেন। সৌভাগ্যক্রমে, সিনিয়র চিকিৎসক ডা. রাজীব দে সরকার তখন হাসপাতালেই উপস্থিত ছিলেন।

ডা. রাজীব শিশুটিকে পরীক্ষা করে জানান, এটি একটি গানশট ইনজুরড অ্যাবডোমেন এবং গুলির আঘাতে খাদ্যনালীর অংশবিশেষে পারফোরেশন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি শিশুটি হাইপোভলিউমিক শকে চলে গেছে, যা কিছুক্ষণ স্থায়ী হলে প্রাণঘাতী হতে পারত। তিনি দ্রুত চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করেন। দীর্ঘ সময় ধরে দুই চিকিৎসকের আপ্রাণ চেষ্টা ও দক্ষ চিকিৎসায় শিশুটির জ্ঞান ফেরে। রিসাসিটেশনের মাধ্যমে শিশুটিকে সংকটমুক্ত করা হয় এবং ভাইটাল সাইনস স্থিতিশীল করা সম্ভব হয়। এ সময় জরুরি বিভাগের নার্স ও কর্মচারীরাও একযোগে সেবাদানে অংশ নেন। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিশুটি হাইপোভলিউমিক শক থেকে ফিরে আসে।

শিশুটির শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

শিশুর মা জানান, “বালুমহল নিয়ে সংঘর্ষের জেরে আমাদের বাড়ির আশপাশে ভাঙচুর ও গুলি বিনিময় চলছিল। এক পর্যায়ে আমার ছেলের পেটে গুলি লাগে। সদর হাসপাতালের ডাক্তাররা সময়মতো চিকিৎসা না দিলে হয়তো আজ আমার বাচ্চাকে ফিরে পেতাম না।”

শিশুর বাবা বলেন, “আমার ছেলের চিকিৎসা সম্পন্ন হওয়ার পর চিকিৎসকদের দেওয়া মেডিকেল সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে আমরা আইনি সহায়তা গ্রহণ করব।”

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X