

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া থানা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের আটজন শিক্ষকের বেতন-ভাতাদি বন্ধ করাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা। গত বৃহস্পতিবার থেকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষ তালাবদ্ধ করে দরজায় পেরেক মেরে আটকে রাখা হয়েছে।
এদিকে গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার পর রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হাসানের হোয়াটসঅ্যাপে ছুটির আবেদনপত্র পাঠিয়েছেন।
অভিযোগে জানা গেছে, সম্প্রতি প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাৎ, সহকারী শিক্ষকদের হয়রানি ও শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার না দেওয়াসহ নানা অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের পর ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. হাসিবুল হাসান সরেজমিনে পরিদর্শনের পর অধিকতর তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেন। ওই তদন্তে সহকারী শিক্ষকরা সাক্ষ্য দিলে প্রশাসন তদন্ত করে প্রাথমিক সত্যতা পায়। তদন্তকালে শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, মানসিক হয়রানি এবং প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার নানা অভিযোগ তুলে ধরেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রধান শিক্ষক সাতজন সহকারী শিক্ষকের বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেন। এ নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে সহকারী শিক্ষকদের বিরোধ দেখা দেয়। এর প্রতিবাদে ভুক্তভোগী সহকারী শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা দিয়ে দরজায় পেরেক মেরে আটকে দেন। এ সময় প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন।
বিদ্যালয়ের ভুক্তভোগী ধর্মীয় শিক্ষক মো. সোহরাব হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রধান শিক্ষক সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে সাতজন শিক্ষকের বেতন বন্ধ করে রেখেছেন। তিনি স্বেচ্ছাচারীভাবে বিদ্যালয় পরিচালনা করে শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট করছেন। তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রশাসনিক তদন্তে শিক্ষকরা সাক্ষ্য দিলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে সাতজন সহকারী শিক্ষকের বেতন বন্ধ করে দেন। যা সম্পূর্ণ বেআইনি। এ কারণে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা দিয়ে দেন।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক এস. এম. মজিবুর রহমান বলেন, আমি বর্তমানে ছুটিতে আছি। শিক্ষকদের বেতন বন্ধ করার মূল কারণ তারা প্রাইভেট পড়ান। প্রশাসনিক কারণে বেতন-ভাতাদি সাময়িকভাবে বন্ধ করেছি। প্রধান শিক্ষকের কক্ষ তালাবদ্ধ করার বিষয়ে আমি কিছু জানি না।
এ বিষয়ে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. হাসিবুল হাসান বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের কক্ষ তালাবদ্ধ করার বিষয়টি শুনেছি। কী কারণে বন্ধ করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

