

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চোখে দেখেন না তবে শব্দ শুনেই গাড়ির সমস্যা বুঝে মেরামত করতে পারেন অন্ধ মোটর সাইকেল মেকানিক হোসেন আলী। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌরশহরের কে এম লতিফ সুপার মার্কেটে ছোট একটি ভাড়া দোকানে মেকানিকের কাজ করেন।
পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রায় দশ বছর আগে ব্রেন স্ট্রোকের পরে চোখে সমস্যা দেখা দিয়েছে। তারপরই চিকিৎসার অবহেলায় অন্ধত্ব বরণ করেন। তবে ৫০ বছর বয়সেও দমে যাননি আলী হোসেন। অদম্য ইচ্ছাশক্তি যেকোনো প্রতিবন্ধকতাকেই হার মানানোর প্রমাণ দিয়েছেন হোসেন আলী।জীবন যুদ্ধে সেই নিজেই প্রকৃত হিরো। কারো অনুদান কিংবা সাহায্যেরও প্রয়োজনও হয়নি তার। কিন্তু এখন সেই আগের মতন আয় রোজগার নেই। দৈনিক ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা আয় করলেও কোন কোন দিন খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়। বছরে দুইবার ইনজেকশন নিতে হয় চোখের জন্য যার খরচ প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। বাবার সহযোগী একমাত্র ছেলে। তারও কিডনিতে সমস্যা হয়েছে।
ভাইয়ের দোকানে ৯ বছর বয়সে হাতেখড়ি হয় মোটরসাইকেল ও জেনারেটরের মেরামতের কাজ। এরপর মেকানিকের কাজ আস্তে আস্তে রপ্ত করেন। শব্দ শুনেই সমস্যাগুলো ধরেন এবং সেগুলো মেরামতের কাজ করেন। নিজ জীবন সম্পর্কে এভাবেই জানাচ্ছিলেন- অন্ধ মোটরসাইকেল মেকানিক হোসেন আলী।
মোটরসাইকেল মেরামত করতে আসা বাইক চালক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, মানুষ বিশ্বাস করে যন্ত্রপাতি মোটরসাইকেল মেরামত করান। চোখে দেখেন না তিনি তারপরও নির্ভুলভাবে কাজ করেন। অভিজ্ঞ এবং অনেক পুরনো লোক তাই এখানে অনেকেই কাজ করাতে ছুটে আসে। আমার গাড়ি মেরামত করতে সব সময় তার কাছে আসি। ইঞ্জিনের যাবতীয় কাজ সহ যে বাইকের সকল কাজ তিনি করতে পারেন। তিনি ভালো কাজ করে দেখে সবাই তার কাছে আসেন।
পৌর শহরের বাসিন্দা সালাম আজাদী বলেন,হোসেন আলীর দুই ছেলেমেয়ে। স্ত্রী সালমা বেগমের একটি কিডনি নষ্ট। তিন মাস পর পর ২ হাজার ৫'শ টাকা প্রতিবন্ধী ভাতা পেলেও সেটা এই দুর্মূল্যের বাজারে খুবই সীমিত। সমাজের বিত্তবানদের উচিত অন্ধ হোসেন আলীর পাশে দাঁড়ানোর।
উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. শফিকুল আলম বলেন, হোসেন আলীকে সমাজসেবা অফিস প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দিয়েছি। এ ছাড়া অন্য কোনো সহযোগিতা এই মুহূর্তে নেই। শুনেছি তিনি একজন ভালো মোটরসাইকেল মেকানিক। অন্য কোনো সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করতে পারলে তাকে অবশ্যই দেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন
