

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পটুয়াখালী শহরের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে লোহালিয়া ইউনিয়নের ইদ্রাকপুর গ্রামে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩০ টন আবর্জনা ১০ থেকে ১২টি ট্রাকে করে এই ভাগাড়ে ফেলা হচ্ছে। এতে গোটা এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।
ভাগাড়-সংলগ্ন পরিবারের শিশুরা শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হচ্ছে, পাশের মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে গেছে, দোকানে ক্রেতা আসা বন্ধ হয়ে গেছে। ভাগাড় সরানোর দাবিতে দুইবার লিখিত আবেদন করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
দেখা যায়, লোহালিয়া সেতুর উত্তর প্রান্তের অ্যাপ্রোচ সড়কের পাশে পৌরসভার নিজস্ব জমিতে ভাগাড়টি গড়ে উঠেছে। ভাগাড়ের একাংশ টিন দিয়ে ঘেরা, বাকি অংশে ছালার চট দিয়ে সীমানা তৈরি করা হলেও তা বাতাসে ছিঁড়ে গেছে। ফলে দুর্গন্ধের পাশাপাশি আবর্জনা উড়ে পার্শ্ববর্তী বাড়িঘরে গিয়ে পড়ছে।
ভাগাড়-সংলগ্ন বাসিন্দা সুলতান প্যাদা (৪২) জানান, দুর্গন্ধ সহ্য করতে না পেরে তাঁর স্ত্রী সালমা বেগম (৩৫) এবং ১৩ মাস বয়সী শিশু শাওন হোসেন নিজের বাড়ি ছেড়ে প্রতিবেশীর ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন। শিশুটি কয়েকবার শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ভাগাড়-সংলগ্ন জোমাদ্দার বাড়িতে সাতটি ঘরে প্রায় ৪০ জন বসবাস করেন, যাদের মধ্যে ৫ থেকে ১২ বছর বয়সী ১৫ জন শিশু রয়েছে। ওই বাড়ির গৃহবধূ সাবিনা ইয়ামিন (২৬) ও স্বর্ণা জাহান মারুফা জানান, রমজান মাসে কষ্ট ছিল সবচেয়ে বেশি।
রোজা রেখে খালি পেটে দুর্গন্ধ সইতে না পেরে অনেকে বমি করতে বাধ্য হয়েছেন। দখিনা বাতাস বাড়লে পুরো পরিবারকে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়।
ভাগাড় থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে ইদ্রাকপুর আমিনিয়া দাখিল মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠানটির সুপার মো. আবদুস সাত্তার লস্কর জানান, দুর্গন্ধের কারণে ৩০০ শিক্ষার্থীর অধিকাংশের উপস্থিতি কমে গেছে। ১৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী অফিস কক্ষে বসে থাকতে পারছেন না।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করা হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
ভাগাড়-সংলগ্ন সড়কের পাশে চায়ের দোকানি ইসমাইল জোমাদ্দার (৪৫) বলেন, দুর্গন্ধের কারণে তাঁর দোকানে ক্রেতা আসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ খালেদুর রহমান মিয়া বলেন, উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য ফেললে শ্বাসকষ্ট ও পানিবাহিত রোগসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়।
জীববৈচিত্র্যের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ে। তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করে শোধনাগার স্থাপনের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করা উচিত।
পটুয়াখালী পৌরসভার প্রশাসক ও জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক জুয়েল রানা বলেন, 'ভাগাড়টি অস্থায়ীভাবে স্থাপন করা হয়েছে। বিকল্প ভাগাড় নির্মাণের কাজ শেষ হলে ইদ্রাকপুরে ময়লা ফেলা বন্ধ করা হবে।' তবে সেই কাজ কবে শেষ হবে, তা তিনি জানাননি।
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুদ উল আলম জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
মন্তব্য করুন