শুক্রবার
১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৫ এএম আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১১ এএম
মুজিবনগর সরকারের উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ।। ছবি: সংগৃহীত
expand
মুজিবনগর সরকারের উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ।। ছবি: সংগৃহীত

আজ ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে, মুক্তিযুদ্ধের সময় মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। পরবর্তীতে এই স্থানটির নামকরণ করা হয় মুজিবনগর।

এর আগে, ১০ এপ্রিল স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ সরকার গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। পরদিন ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ বেতারের মাধ্যমে দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেন, যা আকাশবাণী থেকেও প্রচারিত হয়। সেই ভাষণে তিনি দেশব্যাপি চলমান প্রতিরোধ যুদ্ধের চিত্র তুলে ধরেন।

এই সময়ে পাকিস্তানের নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এক গোপন বৈঠকে প্রবাসী সরকার গঠন করেন। এতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে রাষ্ট্রপতি এবং সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। সৈয়দ নজরুল ইসলাম তাজউদ্দিন আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেন। প্রশাসনিক কাঠামো গঠনে এইচ.টি. ইমাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

১৭ এপ্রিল শপথ গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। তাজউদ্দিন আহমেদের ভাষণের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে জানা যায় যে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য একটি বৈধ সরকার গঠিত হয়েছে। এরপর ১৭ এপ্রিল সকালে মুজিবনগরে শপথ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা হলেন, এম মনসুর আলী (অর্থ বাণিজ্য ও শিল্প) এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামান (স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষি)। জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী অস্থায়ী সরকারের মুক্তিবাহিনীর প্রধান কমান্ডার এবং মেজর জেনারেল আবদুর রব চিফ অব স্টাফ নিযুক্ত হন।

মুজিবনগর সরকারকে ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ভাগ করা হয়। এছাড়া কয়েকটি বিভাগ মন্ত্রিপরিষদের কর্তৃত্বাধীনে থাকে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় যুদ্ধরত অঞ্চলকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে প্রতিটিতে একজন করে সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ করা হয়। তবে ১০ নম্বর বা নৌ সেক্টরে কোন সেক্টর কমান্ডার ছিল না, কমান্ডোরা যখন যে এলাকায় অভিযান করতেন সে সেক্টরের কমান্ডারের অধীনে থাকত।

মেহেরপুরের সীমান্তবর্তী গ্রাম বৈদ্যনাথতলায় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আবদুল মান্নান এম.এন.এ এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী এম.এন.এ। নবগঠিত সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে এখানে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্যদিয়ে শুরু হয়েছিল মুজিবনগর সরকারের শপথ অনুষ্ঠান। আর সেই অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেছিলেন ১৭ বছরের এক কিশোর মো. বাকের আলী।

মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বে ৯ মাসের সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন