

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পঞ্চগড়ে মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ে হাজিরা খাতা নিয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক একেএম ওয়াহিদুজ্জামান নিজের কার্যালয় থেকে দ্রুত দৌড়ে বেরিয়ে যান। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে পঞ্চগড় পৌরসভার ইসলামবাগ লিচুতলা এলাকায় অবস্থিত মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। হাজিরা খাতা নিয়ে উপ-পরিচালক একেএম ওয়াহিদুজ্জামানের সঙ্গে অফিসের কয়েকজন কর্মচারীর কথা কাটাকাটি শুরু হয় বলে জানা গেছে।
এদিকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কর্মচারী ও কর্মকর্তার তর্কের কথা শোনা যায়।
ঘটনার পর সরেজমিনে কার্যালয়ে গিয়ে কর্মচারীরা অভিযোগ করেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই অফিসে উপস্থিত হলেও ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে কয়েকজনকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে দেননি ওই কর্মকর্তা। বিষয়টি নিয়ে কথা বললে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে বাকবিতণ্ডা বাড়তে থাকলে তিনি নিজের কক্ষ থেকে দ্রুত বেরিয়ে যান।
কার্যালয়ের সহকারী ট্রেইনার লুনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দিন কোনো কারণ ছাড়াই তাকে সবার সামনে অপমান করা হয়েছে। তার দাবি, শুধু তার সঙ্গে নয়, অফিসের অন্যান্য কর্মচারীদের সঙ্গেও ওই কর্মকর্তা প্রায়ই অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং বিভিন্ন সময় অকারণে হুমকি দেন।
অন্যদিকে অফিসের স্টাফ সেলিনা নাসরিন, মঞ্জুরুল ইসলাম ও কমবুল হোসেন জানান, তারা সকাল ৯টার আগেই অফিসে উপস্থিত হন। তবে সকাল থেকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে দেওয়া হয়নি। পরে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে উপ-পরিচালক মোবাইলে ভিডিও ধারণ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এদিকে, এর আগে গত ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে নিজ কার্যালয়ের নারী কর্মচারীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও হামলার অভিযোগ ওঠে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে সোমবার (৯ মার্চ) ভুক্তভোগীরা মানববন্ধন করে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন।
এছাড়া মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিনাত আরা স্বাক্ষরিত এক নোটিশে উপ-পরিচালক ওয়াহিদুজ্জামানকে শোকজ করা হয়েছে। অফিস সূত্র জানায়, সেই শোকজের চিঠি মঙ্গলবার পঞ্চগড় জেলা কার্যালয়ে পৌঁছেছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপ-পরিচালক একেএম ওয়াহিদুজ্জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এবং মুঠোফেন ধরেন নি।
পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুমন চন্দ্র দাশ জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন