

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা একটি ট্রেনের এসি কোচের কনডেন্সার কয়েল (কম্প্রেসার থেকে আসা গরম গ্যাসকে ঠান্ডা তরলে রূপান্তর করার যন্ত্রাংশ) চুরির ঘটনা ঘটেছে।
চুরির ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ট্রেনের ক্ষতিগ্রস্ত ‘গ’ নম্বর কোচটি পঞ্চগড় রেলস্টেশনে রেখে কম সংখ্যক কোচ নিয়ে ৭৯৪ রেকে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস হিসেবে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় ট্রেনটি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত কোচটি নির্দিষ্ট রেক থেকে আলাদা করে অন্য রেকে রাখা হয়েছে। কোচটি মেরামত না হওয়া পর্যন্ত ওই রেকে ১৩টির পরিবর্তে ১২টি কোচ নিয়ে বিভিন্ন নামে ট্রেনটি আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলাচল করবে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কোচটি স্পেয়ার কোচ হিসেবেও ব্যবহার করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত কোচটির ছাদের ওপর কনডেন্সার কয়েলের ঢাকনা খোলা রয়েছে।
জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত কোচটি ঢাকা থেকে দ্রুতযান এক্সপ্রেসের সঙ্গে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে। এর আগে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসার পর পথিমধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্তরা বিষয়টি টের পেয়ে রেল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। কোচটিতে ৭৮টি এসি চেয়ার ছিল। ফলে ঢাকাগামী ওই কোচের যাত্রীরা কিছুটা দুর্ভোগে পড়েন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত বছরের ১৬ ডিসেম্বরের পর ৮ ফেব্রুয়ারি এবং তৃতীয়বারের মতো বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) একই ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কোচের বিক্রিত টিকিটের অর্থ যাত্রীদের ফেরত দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পঞ্চগড় রেলস্টেশনের কর্মকর্তারা।
পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনের ইলেকট্রিক ডিপার্টমেন্টের শ্রমিক মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, মাঝে মধ্যে এমন চুরির ঘটনা ঘটছে। জবাব চাওয়ার পর আমরা আমাদের অবস্থান থেকে পরিষ্কারভাবে উত্তর দিচ্ছি। এসব চুরির ঘটনা ঢাকা থেকে আসার সময় পথেই ঘটছে।
পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনের ইলেকট্রিক অফিসের ইনচার্জ পাভেল মাহমুদ বলেন, ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ে আসার পথে কেউ কোচের ছাদ থেকে কনডেন্সার কয়েল খুলে নিয়ে গেছে। এসির কার্যকারিতা কমে গেলে দায়িত্বপ্রাপ্তরা বিষয়টি বুঝতে পারেন। এসি কোচের জন্য কনডেন্সার কয়েল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যেহেতু এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাই কোচটি রেখে কম সংখ্যক কোচ নিয়ে ট্রেন যাত্রা শুরু করেছে। তবে কীভাবে ঘটনা ঘটেছে, তা জানতে সংশ্লিষ্টদের তলব করা হয়েছে।
স্টেশন মাস্টার জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, সকালে ট্রেনটি পঞ্চগড় স্টেশনে পৌঁছালে ইলেকট্রিক ডিপার্টমেন্ট থেকে একটি কোচ বাতিল ঘোষণা করা হয়। বার্তায় জানানো হয়, একটি কনডেন্সার কয়েল অনুপস্থিত রয়েছে। একই সঙ্গে ওই কোচের টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। যারা আগে টিকিট কিনেছেন, তাদের সমপরিমাণ অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ওই রেকে একটি কোচ কম নিয়ে ট্রেন চলাচল করবে। এতে কোচটির রাজস্ব আয়ে প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া ‘গ’ কোচটি যাত্রাপথে শাটল ট্রিপে যুক্ত ছিল। পঞ্চগড় থেকে কোচটি ঠাকুরগাঁও, পীরগঞ্জ, দিনাজপুর ও পার্বতীপুর পর্যন্ত শাটল ট্রিপে যুক্ত থাকত।
মন্তব্য করুন
