

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


অবিরাম বর্ষণ ও উত্তাল সাগরের প্রভাবে প্রবল জোয়ারের পানিতে নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে জোয়ারের পানিতে পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যায়। একই সঙ্গে মেঘনা নদীর তীব্র ভাঙনে বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বড় ধরনের জোয়ার বা জলোচ্ছ্বাস হলে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ ভেঙে আরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টানা পাঁচ দিনের ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে হাতিয়ার বেড়িবাঁধের বাইরের নিম্নাঞ্চল পুরোপুরি প্লাবিত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ডুবে গেছে অসংখ্য রাস্তাঘাট, পুকুর, ফসলি জমি, বসতঘর, আঙিনা, রান্নাঘর ও মাছের ঘের। কোথাও হাঁটু সমান, আবার কোথাও কোমর সমান পানি জমে রয়েছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠও পানিতে তলিয়ে গেছে।
এদিকে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে বুধবার থেকে হাতিয়ার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর ষান্মাসিক ও প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আনম হাসান।
নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লাভলী বেগম জানান, রাতভর টানা বৃষ্টির পর বৃহস্পতিবার দুপুরের জোয়ারে নিঝুমদ্বীপের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। প্রধান সড়কের অনেক অংশ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
একই চিত্র দেখা গেছে হাতিয়া পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা এবং উপজেলার তমরদ্দি, নলচিরা, সোনাদিয়া, চর ঈশ্বর, সুখচর, হরনী ও চানন্দী ইউনিয়নের বহু এলাকায়। অনেক পরিবার ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে এবং স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল জানান, পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে প্রশাসন মাঠে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।