

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় তারাবির নামাজ শেষে মসজিদের ভেতরে ঢুকে এক ইমামকে টেনেহিঁচড়ে বের করে মারধরের অভিযোগ উঠেছে একদল যুবকের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দিবাগত রাতে উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের ৭ নম্বর চরবগুলা ওয়ার্ডের একটি মসজিদে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে।
আক্রান্ত ইমামের নাম মাওলানা রবিউল হোসাইন। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও বিগত নির্বাচনের পুরনো বিরোধের জেরে এই হামলা চালানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাওলানা রবিউল হোসাইন গত জাতীয় নির্বাচনের সময় একটি নির্দিষ্ট প্রার্থীর (শাপলা কলি প্রতীক) পক্ষে নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সেই সময়কার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জেরে স্থানীয় কতিপয় যুবক তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। মঙ্গলবার রাতে তারাবির নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই অভিযুক্তরা মসজিদের ভেতর থেকে তাকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে বাইরে বের করে আনে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।
হামলায় জড়িত হিসেবে স্থানীয়রা বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন। তারা হলেন— চরবগুলা এলাকার শাহাদাত হোসেন (২৪), রুবেল (২৬), ওসমান, সুমন ও কালা মিরাজসহ আরও কয়েকজন। অভিযোগ উঠেছে, হামলাকারীরা বর্তমানে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে এলাকায় পরিচয় দিয়ে থাকেন।
এ বিষয়ে হাতিয়ার সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন: "বিগত সময়ে যারা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িত ছিল, তারা এখন বিএনপির নাম ভাঙিয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু করেছে। একজন ধর্মীয় নেতার ওপর এমন হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাই, দ্রুত সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।"
অন্যদিকে, ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইল ইসলাম জানান, "বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী বা অন্য কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। লিখিত অভিযোগ পেলেই আমরা তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"
ঘটনার পর থেকে এলাকায় সাধারণ মুসল্লি ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন