সোমবার
১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফলন ভালো, লাভ নিয়ে শঙ্কায় ধান চাষিরা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
বরেন্দ্র অঞ্চলের আমন ধান
expand
বরেন্দ্র অঞ্চলের আমন ধান

বরেন্দ্র অঞ্চলে এখন পুরোদমে চলছে আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ। মাঠজুড়ে সোনালী ধানের সমারোহ আর কৃষকদের ব্যস্ততায় তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। তবে ভালো ফলনের আনন্দের মাঝেও বাড়তি উৎপাদন ব্যয়, শ্রমিক সংকট ও বাজারে ধানের কম দামে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বরেন্দ্র অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষকরা ধান কাটার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনেকেই আধুনিক হারভেস্টার ও মাড়াই মেশিন ব্যবহার করছেন। এতে সময় ও শ্রম কমলেও খরচ বেড়েছে কয়েকগুণ। পাশাপাশি খড়ের ভালো দাম কিছুটা স্বস্তি দিলেও সামগ্রিক ব্যয় মেটাতে তা যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, এ বছর আমন ধানের ফলন সন্তোষজনক হয়েছে। প্রতি বিঘায় গড়ে ২০ থেকে ২৩ মণ পর্যন্ত ধান পাওয়া যাচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। কিন্তু সার, শ্রমিক ও সেচ খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতি বিঘা জমিতে ধান চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি।

কৃষকদের অভিযোগ, মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সার সংকট দেখা দেওয়ায় অনেককে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে হয়েছে। এতে উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়ে যায়।

চাষি আব্দুর রায়হান তুহিন বলেন, “ধানের দামের চেয়ে এখন সারের দাম বেশি মনে হচ্ছে। উৎপাদন খরচ বাড়ছে, কিন্তু বাজারে ধানের দাম সে অনুযায়ী বাড়ছে না। এভাবে চললে কৃষকের টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে।”

ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিক সংকটও কৃষকদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একসঙ্গে অধিকাংশ কৃষক ধান কাটায় শ্রমিকের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় মজুরিও বেড়েছে। ফলে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে বেশি মজুরিতে শ্রমিক নিয়োগ করছেন। কেউ কেউ বিকল্প হিসেবে হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার করছেন।

এদিকে সেচনির্ভর এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কৃষকরা। তাদের দাবি, সময়মতো পানি ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যৎ মৌসুমে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। এছাড়া কিছু এলাকায় ‘কারেন্ট পোকা’র আক্রমণে ধানের আংশিক ক্ষতি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন কৃষকরা।

বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায়। কৃষকদের মতে, উৎপাদন খরচ বিবেচনায় এই দাম যথেষ্ট নয়। তারা বলছেন, বাজারদর না বাড়লে ভালো ফলন হলেও প্রকৃত লাভ পাওয়া কঠিন হবে। এতে ভবিষ্যতে অনেক কৃষক ধান চাষ থেকে সরে যেতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. ইয়াসিন আলি এনপিবি নিউজ কে বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, সময়মতো সার প্রয়োগ ও সঠিক ব্যবস্থাপনার কারণে এ বছর ভালো ফলন সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, জেলায় বোরো আবাদ হয়েছে ৪৭ হাজার ৭৬৫ হেক্টর জমিতে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। কৃষকদের সহায়তায় বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রণোদনা কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানান

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন