

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা রফিউর রাব্বি বলেছেন, আগস্টের পর থেকে দেখছি কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী মানুষকে ভুল বুঝিয়ে মব তৈরি করে। সরল মানুষদের ইসলামের অপব্যখ্যা দিয়ে মানুষের বিরুদ্ধে দাঁড় করাচ্ছে। মানুষকে বলা হয়েছে আশরাফুল মাখলুকাত। শুধু মুসলমানকে বলা হয়নি। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সকল মানুষকে বলা হয়েছে। আমরা যেমন আল্লাহ ও তার রাসুলের বিরুদ্ধে যেমন কটুক্তি সমর্থন করি না। ঠিক তেমনি কোন মানুষের বিরুদ্ধে অন্য কেউ ঝাপিয়ে পড়বে এটাকেও আমরা সমর্থন করতে পারি না। এবং আমরা সমর্থন করবোও না।”
রোববার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সারাদেশে মাজার ও বাউলদের উপর হামলার প্রতিবাদে সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের দেশের ইতিহাস দেখেন যারা তরিকতপন্থী রয়েছে, তারা কখনও তলোয়ার বা অস্ত্র নিয়ে মানুষের ওপর ঝাপিয়ে পড়েনি। বাউল ও সুফি যারা, তারা শান্তিপ্রিয় মানুষ। তারা কখনও মানুষকে আঘাত দেয়নি, বরং পিঠ ও মাথা পেতে সমস্ত আঘাত সহ্য করেছে।”
তিনি বলেন, “আঘাত সহ্য করা কি তাদের অপরাধ? তারা নিরীহ প্রাণী সুতরাং তাদের ওপর আঘাত করতে হবে? আমরা প্রশাসনকে বলতে চাই, এই হামলাকারী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আপনারা ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। যারা আইন নিজের হাতে তুলে নিতে চায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। আমরা ৫ আগস্টের পরে দেখছি, নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার পদে পদে যারা ভঙছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না অন্তর্বর্তী সরকার। বরং তাদের সাথে আঁতাত ও আপোস করছে।”
নারায়ণগঞ্জের পুলিশ ও প্রশাসনের উদ্দেশ্যে রাব্বি বলেন, “আপনাদের দায়িত্ব নারায়ণগঞ্জের প্রত্যেকটা নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কোনো উগ্রবাদী ব্যক্তির কাছে মাথা নত না করা। কোন তৌহিদী জনতার ব্যানার দেখলেই আতকে ওঠেন কেন আপনারা?”
“তাওহীদ প্রতিষ্ঠা মানে সত্য, ন্যায়, হক্ব ও ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা। এর বাইরে কোনো সংজ্ঞা নেই। অথচ আপনারা ভিন্নমত দমন করতে তলোয়ার নিয়ে ঝাপিয়ে পড়েন। আর ইসলাম প্রতিষ্ঠার কথা বলেন। এই দায়িত্ব কে দিয়েছে? বাউলরা মিছিল ও সমাবেশ করতে চাইলে আপনারা হামলা করেন। আপনাদের যদি সেটি পছন্দ না হয়, তাহলে প্রশাসনকে বলুন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য। নাগরিক যদি কোনো অপরাধ করে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকার ও প্রশাসন রয়েছে। কোন ব্যক্তি নিজ হাতে আইন তুলে নিতে পারে না।"
নারায়ণগঞ্জ জেলা বাউল শিল্পী ও ওলি-আউলিয়ার ভক্ত-আশেকানদের আয়োজনে এ সমাবেশের শুরুর আগে শহীদ মিনারের বেদিতে সাঁটানো একটি ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলেন কয়েকজন যুবক। পরে পুলিশ সেখান থেকে একজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। দুপুর তিনটার দিকে এই ঘটনার ঘন্টাখানেক পর সমাবেশ শুরু হয়।
মাজার-দরবার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ইউনূস ভান্ডারির সভাপতিত্বে ও জেলা বাউল সংগঠন সম্মিলিত জোটের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমেদ বাঁধনের সঞ্চালনায় এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মনি সুপান্থ, সাধারণ সম্পাদক দিনা তাজরিন, সুশাসনের জন্য নাগরিকের জেলা সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল, মুক্তিধাম লালন আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা ফকির শাহ জালাল প্রমুখ।
মন্তব্য করুন