

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, জাতিকে সুশিক্ষিত করাই আমাদের দায়িত্ব। তাই যত ট্রল বা অপবাদই আসুক না কেন, আমাদের সঠিক দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত করা যাবে না।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন ও নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
এর আগে শহরের বরুনকান্দি এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে নামফলক উন্মোচন এবং পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলী স্বাগত বক্তব্য দেন।
সম্প্রতি এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে নিজের বিরুদ্ধে হওয়া আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সিটি কলেজের এক শিক্ষার্থী বারবার আমার সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিল। আমি কথা বলি। সে পরীক্ষা পেছানোর অনুরোধ জানায়। কিন্তু জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা ইচ্ছামতো পরিবর্তন করা যায় না। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছিলাম, ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তাই পরীক্ষা যথাসময়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।’
তিনি বলেন, ‘পরে দেখা গেল দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা বৃষ্টি হয়েছে। তবে কেবল কুমিল্লা মহিলা কলেজ কেন্দ্রেই জলাবদ্ধতার কারণে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউএনও ও জেলা প্রশাসক পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। বিষয়টি জানার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আমি নির্দেশ দিয়েছিলাম।’
মন্ত্রী বলেন, ‘বৃষ্টি হলে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়া নতুন কোনো বিষয় নয়। এ অভিজ্ঞতা থেকে ভবিষ্যতে পরীক্ষার সময়সূচি আরও উপযোগী করার চেষ্টা করছি।’
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথোপকথনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘আমি শিক্ষার্থীদের কষ্টের বিষয়টি উপলব্ধি করেছি এবং তাদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছি। কিন্তু বিষয়টিকে ঘিরে একটি নেতিবাচক বর্ণনা তৈরি করা হয়েছে। যারা আমাকে নিয়ে ট্রল করেছে, তাদের অনেকেই পরীক্ষার্থী ছিল না। অথচ ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নামতে দেখা যায়নি। একটি মহল বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।’
অবিচলভাবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন জানিয়ে এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘যত ট্রল ও অপবাদই দেওয়া হোক না কেন, আমাদের দায়িত্ব পালন থেকে কেউ বিচ্যুত করতে পারবে না।’
নাম উল্লেখ না করে এক শিক্ষককে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘একজন শিক্ষক আমাকে ‘‘পরীক্ষা মিলন’’ বলে সম্বোধন করেছেন। কিন্তু পরীক্ষা ছাড়া কেউ পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করতে পারেন না। পরীক্ষা ছাড়া কোনো সনদ হয় না। অনেক সময় মনে হয়, দেশে কিছু পিএইচডির মান নিয়েও প্রশ্ন তোলা প্রয়োজন।’
বাংলাদেশকে শিক্ষার হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চান জানিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে বিশ্বের একটি শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই, যেখানে বিদেশি শিক্ষার্থীরাও পড়তে আসবে। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা বিদেশে মেধার স্বাক্ষর রাখছে। তাহলে আমরা নিজের দেশকেও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।’
নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা হবে, যেখানে পড়াশোনা করতে শিক্ষার্থীরা আগ্রহী থাকবে। নওগাঁবাসী যেন একটি আধুনিক ও মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয় পায়, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।’
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নওগাঁয় বঙ্গবন্ধুর নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইনের খসড়া অনুমোদন দেয় তৎকালীন মন্ত্রিসভা। ২০২৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি সংসদে 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়, নওগাঁ আইন পাস হয়। পরে ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় রাখে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে হিসাববিজ্ঞান ও আইন বিভাগে ৪০ জন করে মোট ৮০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করল নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়।


