

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ময়মনসিংহ সদর–৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী এক আইনজীবীর পোস্টার ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন ঘোষণা না করলেও শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঝুলছে তাঁর পোস্টার—সেখানে বড় করে লেখা ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–বিএনপি মনোনীত’। এতে ধানের শীষ প্রতীকসহ দলের শীর্ষ নেতাদের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
স্থানীয় পর্যায়ে নজরকাড়া এই পোস্টার এখন আসন্ন নির্বাচনের আগে ময়মনসিংহ সদরের আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।
পোস্টারে দেখা যায়, বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি তুলে ধরার পাশাপাশি দেওয়া হয়েছে ‘এমপি হিসেবে দেখতে চাই’ স্লোগান। স্থানীয়দের অভিযোগ, এমন পোস্টার ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে পারে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন—দলীয় সিদ্ধান্ত ছাড়া কীভাবে কেউ নিজেকে ‘মনোনীত’ দাবি করেন।
দলের একজন স্থানীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘বিএনপির মনোনয়ন এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে কেউ পোস্টার করলে সেটা সম্পূর্ণ অনুমতিহীন।’ এ ঘটনায় সম্ভাব্য অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, এটি ‘প্রচারণার সীমা লঙ্ঘন’ এবং ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা।
এদিকে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। কেউ বলছেন, এটি প্রার্থীর অতিরিক্ত আগ্রহের প্রকাশ; আবার কেউ মনে করছেন, দলীয় মনোনয়ন না পেলে এমন পোস্টার ভবিষ্যতে প্রার্থী ও দলের জন্য বিব্রতকর হতে পারে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পোস্টার-সংশ্লিষ্ট ওই প্রার্থী মির্জা আল মাহমুদ পেশায় আইনজীবী। তিনি ডেপুটি এটর্নি জেনারেল। ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। সদর উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের চূরখাই এলাকায় তাঁর বাড়ি। তবে তিনি এলাকার বাহিরে কিছুই চিনেন না বলে একাধিকবার জানান।
দলের শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তাঁকে দলীয় সদস্যপদসহ আইনজীবী ফোরাম থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে ২০২৩ সালের ৬ মার্চ বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করেন তিনি। ২৬ নভেম্বর দলীয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাঁর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
পোস্টার তৈরির বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে এডভোকেট মির্জা আল মাহমুদ বলেন, ‘পোস্টারটি আমি করিনি। সদরবাসী আমাকে ভালোবেসে পোস্টার করেছে—এ নিয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।’ মনোনয়ন পেয়েছেন কি না, জানতে চাইলে জানান, এখনো মনোনয়ন পাননি, তবে মনোনয়ন প্রত্যাশী।
বিএনপির ময়মনসিংহ বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেন, গত ৩ অক্টোবর বিএনপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাথমিক মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করে। সেই তালিকায় আমার নাম থাকলেও ময়মনসিংহ সদর–৪ আসন হাতে লেখায় ‘স্থগিত’ রাখা হয়েছিল। পরে কেন্দ্রীয় নেতারা আমাকে মাঠে কাজ করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘দলের মনোনয়ন ছাড়া কেউ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে পোস্টার করতে পারে না।’
একই মত সদর আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম. এ. হান্নান খানের। তিনি বলেন, ‘দল থেকে এখনো কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। সেক্ষেত্রে মনোনীত লিখে পোস্টার করা দলের জন্য যেমন বিব্রতকর, তেমনি ভোটারদের কাছেও বিভ্রান্তিকর। এ ধরনের কাজ থেকে সবাইকে বিরত থাকা উচিত।’
মন্তব্য করুন