

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় স্থানীয়দের ধাওয়া খেয়ে জবাই করা ১৩টি ঘোড়া ফেলে পালিয়েছে অবৈধ ঘোড়ার মাংস ব্যবসায়ী একটি চক্র। ঘটনাস্থল থেকে জবাইয়ের জন্য আনা একটি জীবিত ঘোড়াও উদ্ধার করেছেন এলাকাবাসী।
বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার আনারপুরা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন পল্লী বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনের পেছনে একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে এসব ঘোড়া উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, উদ্ধার হওয়া ঘোড়াগুলো জবাই করে প্রায় ৩৫-৪০ মণ মাংস সংগ্রহ করে বাজারজাত করার পরিকল্পনা ছিল চক্রটির। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দা তোফাজ্জল মিয়াজী জানান, প্রায় ছয় মাস ধরে ওই এলাকায় অস্বাভাবিক কিছু কার্যক্রম লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় গ্রামবাসী নজরদারি শুরু করেন। বুধবার ভোরে তারা ঘটনাস্থলে গেলে চক্রের সদস্যরা টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যায়। এ সময় তিতাস ও রাজিব নামের দুইজনকে শনাক্ত করা গেছে বলে তিনি জানান।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী নাজমুল হোসেন বলেন, প্রতি রোববার ও বুধবার গভীর রাতে পরিত্যক্ত ঘরটির সামনে অজ্ঞাত যানবাহন আসতে দেখা যেত। পরে সকালে সেখানে রক্ত ও পশুর হাড় পড়ে থাকতে দেখা যেত। অনুসন্ধানে জানা যায়, চক্রটি ঘোড়া জবাই করে সেই মাংস গরুর মাংস হিসেবে বিভিন্ন হোটেলে সরবরাহ করত। পরে চামড়া, হাড় ও নাড়িভুঁড়ি গর্ত করে পুঁতে প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করা হতো।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রিগ্যান মোল্লা বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ইউএনওকে জানানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে ১৩টি জবাইকৃত ঘোড়া এবং একটি অসুস্থ জীবিত ঘোড়া পাওয়া যায়। উদ্ধার হওয়া ঘোড়াটিকে চিকিৎসা দিয়ে একজনের হেফাজতে রাখা হয়েছে।
গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসান আলী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে পুলিশের আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১’ অনুযায়ী ঘোড়া জবাইয়ের কোনো অনুমতি নেই। ঘটনাস্থলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি, তাই তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা যায়নি। তবে পুলিশকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া জবাইকৃত ঘোড়াগুলো প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মাটিতে পুঁতে ফেলা হবে।
মন্তব্য করুন