

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


শাশুড়ির গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অপরাধে হাউস আলী নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড (আমৃত্যু পর্যন্ত) দিয়েছে আদালত। একই সাথে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিজ্ঞ বিচারক আলি মাসুদ শেখ এ আদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত হাউস আলী মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ষোলটাকা গ্রামের আহমদ আলী ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ঘটনার প্রায় ৭-৮ বছর পূর্বে একই উপজেলার ষোলটাকা গ্রামের আহমদ আলী ছেলে হাউস আলীর সাথে সহড়াবাড়িয়া গ্রামের আবু বক্করের মেয়ে আম্বিয়া খাতুনের সাথে পারিবারিকভাবে বিবাহ হয়। বিয়ের পর হাউস আলী স্ত্রী আম্বিয়া খাতুনকে নানাভাবে অত্যাচার করা সহ ভরণপোষণ দেওয়া থেকে বিরত থাকার কারণে আম্বিয়া খাতুন তার স্বামীকে তালাক দেন। স্ত্রী আম্বিয়া তালাক দেওয়ায় হাউস আলী ক্ষিপ্ত হয়ে ২০১৬ সালের ৭ মে রাতে শহড়াবাড়িয়া গ্রামে তার শ্বশুরবাড়িতে উপস্থিত হয়। ঐ সময় সে তার স্ত্রীর খোঁজ করতে থাকে। ঐদিন তার স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন নির্বাচনী ডিউটি করার জন্য গাংনীতে অবস্থান করে।
এদিকে হাউস আলী তার স্ত্রীকে না পেয়ে তার শাশুড়ি ফুলসুরাতনের (৬৬) গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় ফুলসুরাতনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে হাউস আলী পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে তার অবস্থার অবনতি হলে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়।
মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ওই ঘটনায় নিহতের মেয়ে আম্বিয়া খাতুন বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সংশোধনী) ২০০৩ এর ৪(১)ধারা একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ১১। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রাথমিক তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলায় মোট ১৮ জন সাক্ষী তাদের সাক্ষ্য দেন। সাক্ষীদের সাক্ষে আসামী হাউস আলী দোষী প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড (আমৃত্যু পর্যন্ত)। ৫০ হাজার টাকা জরিমানা। অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাড. মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন। এবং আসামী পক্ষে অ্যাড. শহিদুল ইসলাম কৌশলী ছিলেন।