শুক্রবার
১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুশইনের ৬ দিন পার হলেও মাথা গোঁজার ঠাঁই মেলেনি রোজিনার

মেহেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬, ১২:২৮ এএম
মানসিক ভারসাম্যহীন রোজিনা
expand
মানসিক ভারসাম্যহীন রোজিনা

মেহেরপুরের তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্তে রাতের আধারে বিএসএফ ঠেলে দেওয়া পুশইন হওয়া রোজিনা নামের এক নারী বাড়ি ফিরতে পারেনি। ভারত থেকে পুশইন হওয়া ১৩ জনের মধ্যে ১২ জন নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছালেও মানসিক ভারসাম্যহীন রোজিনা নামের এক নারীর ভাগ্যে এখনো স্থায়ী আশ্রয় জোটেনি। পুশইনের ছয় দিন পরও তিনি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজীপুর ইউনিয়নের পিরতলা গ্রামে অবস্থান করছেন এবং বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করছেন।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে পিরতলা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, রোজিনা গ্রামের বিভিন্ন স্থানে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। স্থানীয়রা তাকে খাবার দিলেও তার স্থায়ী থাকার কোনো ব্যবস্থা হয়নি।

এর আগে গত ৬ জুন এনপিবি নিউজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্তের ১৪০ নম্বর মেইন পিলারের ৪এস সাব-পিলার সংলগ্ন এলাকা দিয়ে সাতজনের বাংলাদেশে প্রবেশের কথা বলা হয়। ওই সাতজনের মধ্যেই ছিলেন রোজিনা। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সীমান্ত অতিক্রমের পর আতঙ্কিত অবস্থায় তিনি একটি আমবাগানে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং নিজের নাম রোজিনা বলে পরিচয় দিয়েছিলেন।

রোজিনার বর্তমান অবস্থান ও পুনর্বাসন বিষয়ে জানতে মেহেরপুর জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আসাদুল ইসলামের মুঠোফোনে বিভিন্ন সময়ে অন্তত ১০ বার কল করা হলেও প্রতিবারই ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, রোজিনা নামের মেয়েটির বিষয়ে শুনেছি। তবে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসনকে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। আগে নিশ্চিত হতে হবে মেয়েটি মানবপাচারের শিকার কিনা এবং তিনি বাংলাদেশের নাকি ভারতের নাগরিক। পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিবেদন দেওয়া হলে আমরা প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেব। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় তার প্রকৃত ঠিকানা শনাক্ত করে সেখানে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।'

তবে এ বিষয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন মেহেরপুর জেলা পুলিশের মিডিয়া ফোকাল পার্সন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খান।

তিনি বলেন, 'আমাদের ভবানীপুর ক্যাম্পের ইনচার্জ বিষয়টি যথাযথভাবে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছেন। মেয়েটি বর্তমানে কাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদ ও ইউনিয়ন সমাজসেবা কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে রয়েছে।'

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, রোজিনা এখনও বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং তার জন্য দৃশ্যমান কোনো পুনর্বাসন বা চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা হয়নি। প্রশাসনের দুই পক্ষের বক্তব্যে তথ্যগত অসঙ্গতি থাকায় তার প্রকৃত অবস্থা ও দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সীমান্ত দিয়ে পুশইনের ঘটনার পর কয়েকদিন পার হলেও মানসিক ভারসাম্যহীন এই নারীর পরিচয় শনাক্তকরণ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, মানবিক বিবেচনায় দ্রুত রোজিনার পরিচয় নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হোক।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন