

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর কাছে অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়াই বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকটের মূল কারণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি) ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
তিনি বলেন, এই কাঠামোর কারণেই প্রধানমন্ত্রী সংসদ, মন্ত্রিপরিষদ, রাষ্ট্রপতি এমনকি বিচার বিভাগের ওপরও প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন, যা শেষ পর্যন্ত স্বৈরতন্ত্রের জন্ম দেয়।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মেহেরপুর শহরের পুলিশ লাইন এলাকায় আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার এবং 'স্পেশালাইজড আইসিটি ট্রেনিং ফর কলেজ টিচার্স' শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধন ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার বাইরে পুলিশ প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন কিংবা দুর্নীতি দমন কমিশন কার্যত স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না।
এর ফলে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক কর্তৃত্ববাদের বিপরীতে নিজেদের ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ অবস্থা থেকে উত্তরণে ক্ষমতার ভারসাম্য ও বিকেন্দ্রীকরণ অপরিহার্য।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় ঐক্যমত কমিশন এই দেশকে মুক্তির একটি পথ দেখিয়েছে। সেই পথের মূল কথা হলো, ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কিছুটা সীমিত করে বিচার বিভাগ, সংসদ ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ করে দেওয়া।
তা না হলে প্রশাসনের ভেতরে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির দৌরাত্ম্য আরও বাড়বে এবং প্রধানমন্ত্রীর পিএস, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও কিছু আমলা সবচেয়ে ক্ষমতাবান হয়ে উঠবে।
গত ৫৪ বছরের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই কাঠামোর কুফলের কারণেই আমরা একাধিক স্বৈরাচার দেখেছি। বাংলাদেশকে এই কুফল থেকে মুক্ত করতে হলে সবাইকে পরিবর্তন ও সংস্কারের পক্ষে এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শেখ বখতিয়ার উদ্দীন, মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির এবং পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও কারিগরি) মোহাম্মদ সাইফুল হাসান।
মন্তব্য করুন