

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে রশিদ ছাড়াই রোগীদের বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর অভিযোগ উঠেছে। কাগজে কলমে ‘বিনা রশিদে আর্থিক লেনদেন নির্দেশনা’ থাকলেও বাস্তবে উল্টো চিত্রের দেখা মিলেছে। সরকারি হাসপাতালে প্যাথলজির টাকা যাচ্ছে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পকেটে।
এনপিবি নিউজের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে সরকারি হাসপাতালের ভেতরে বেসরকারি ল্যাবের চিত্র। রশিদ ছাড়াই পরীক্ষা-নিরীক্ষার টাকা নিচ্ছেন ল্যাবের কর্মচারীরা। যা সরকারি কোষাগারে না দিয়ে নিজেদের পকেটেই রেখে দেওয়া হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, লেনদেন গোপন রাখতে ল্যাবের বাইরে নমুনা সংগ্রহ না করে তাদের প্যাথলজি ল্যাবের ভেতরে নিয়ে পরীক্ষার নমুনা ও টাকা আদায় করা হচ্ছে। যদিও ল্যাবের দরজায় স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে "রোগী ও রোগীর স্বজনদের ল্যাবে প্রবেশ সম্পুর্ন নিষেধ"। তবুও নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই রোগীদের থেকে এভাবেই আদায় করা হচ্ছে টাকা।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, সরকারি ফি অনুযায়ী ইলেক্ট্রোলাইট পরীক্ষায় ২৫০ টাকা, ফেব্রাইল অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় ৩০০ টাকা এবং ট্রপোনিন-আই পরীক্ষায় ৫০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এসব অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সরকারি রশিদ প্রদান করা হচ্ছে না। ফলে আদায়কৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। রশিদবিহীন এ লেনদেনের কারণে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি প্যাথলজি বিভাগের আর্থিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভর্তি রোগী "ফেব্রাইল অ্যান্টিজেন" পরীক্ষা করতে প্যাথলজি বিভাগে গেলে তাকে ল্যাবরেটরির ভিতরে প্রবেশ করিয়ে ৩০০ টাকা আদায় করা হয় বলে জানান তিনি। তার কাছে টাকার রশীদ দেখতে চাওয়া হলে বলেন, ''ভিতরে থিকা বললো রশীদ লাগবো না। দুপুর ২টার সময় আইসা রিপোর্ট নিয়া যাইয়েন।''
কথা হয় রাসেল উদ্দিনের সাথে। তিনি বলেন, কাউন্টার থেকে রশিদ দিল কিন্তু ল্যাবের ভিতরে যেয়ে ৩০০ টাকার যে পরীক্ষাটা করতে দিলাম তার জন্য টাকা নিল কিন্তু রশিদ দিল না। তার সাথে এসময় রশীদ না দেয়াকে কেন্দ্র করে ল্যাব কর্তৃপক্ষের সাথে বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটে।
রোগীর স্বজন রমজান বলেন, ''রুগী ভিতরে নিয়া যাইতে কইলো দেইখা গেলাম কিন্তু ট্যাকার কাগজ দিলো না। কইলো এই কাগজ নিয়া আসলেই হইবো। তার হাতে দেখা যায় ডাক্তারের পরীক্ষা নির্দেশনা পত্র এবং এই কাগজ ল্যাবে গিয়ে দেখালেই রিপোর্ট দেয়া হবে বলে জানায়।''
কিভাবে রশীদ ছাড়া এই পরীক্ষা করা হচ্ছে জানতে চাইলে ল্যাবের টেকনোলজিস্ট হযরত আলী বলেন, রোগীদের সেবা হচ্ছে বলেই হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আমাদের অনুমতি দিয়েছেন। ল্যাবের ভেতর প্রবেশ নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ''আমরা তাদের জুতা খুলে আসতে বলি। কি করুম ভাই বলেন, জনগণের ঠেলায় থাকা যায় না। তারা যদি ভেতরে আসে তাহলে আমরা কি করুম? আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই কাজ করছি, এখন আপনারা যা পারেন করেন।''
অনিয়মের বিষয়ে জানতে এবার ল্যাব ইনচার্জ জসিম উদ্দিনের মুখোমুখি হয় এনপিবি। তার সন্ধানে গিয়ে দেখা যায়, রশিদ ছাড়া অর্থ আদায়ের নিয়ে রোগীর সঙ্গে বাকবিতন্ডা করছেন জসিম। অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রি-এজেন্ট আমাদের সাপ্লাই নেই। এটা ওরা কিনে রেখেছে যদি কেউ করে তাহলে ৩০০ টাকা সরকারি রেট নিয়ে করে দেয়া হয়।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ বাহাউদ্দীন ক্যামেরায় কথা বলতে রাজি নন। তবে তিনি অভিযোগের কথা শুনে সাংবাদিককে প্রশ্ন করেন কোন রোগীদের সাথে এমন হয়েছে? সাংবাদিকের উত্তর পেয়ে তিনি তৎক্ষণাৎ তার পিয়নকে ডেকে ৩টি পরীক্ষা বন্ধের নির্দেশ দেন প্যাথলজি বিভাগে। তবে তিনি আরও জানান রোগীদের সুবিধার্থে এই সেবা চালু করা হয়েছিলো।