

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মানিকগঞ্জে সাত বছরের এক শিশু হত্যার অভিযোগে সন্দেহভাজন দুজন গণপিটুনিতে নিহত এবং গুরুতর আহত হয়েছে আরও একজন।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে সদর উপজেলার হাটিপাড়া ইউনিয়নের বনপারিল দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশু আতিকা আক্তার (৭) ১ম শ্রেণীর ছাত্রী এবং দুদল মিয়া ও আরিফা আক্তার দম্পতির মেয়ে।
জানা যায়, স্থানীয় একটি বিয়ের গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে গিয়ে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করছিল। কিছু সময় পর তাকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় এবং এলাকায় মাইকিং করে তাকে খোঁজা হয়।
এ সময় আতিকার চাচাতো ভাই আলী (৬) জানায়, সে আতিকাকে প্রতিবেশী কিশোর নাঈম (১৫) এর সঙ্গে যেতে দেখেছে। পরে সন্দেহভাজন নাঈমকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতের কথা জানায়। রাত আনুমানিক ১০টায় ওই ক্ষেত থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আতিকার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পরপরই এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা নাঈমের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে গণধোলাই দেয়।
এতে নাঈমের পিতা অটোচালক পান্নু মিয়া (৪৫) এবং তার ভাই ফজলু (২৮) নিহত হন। এছাড়া পান্নু মিয়ার ছেলে নাজমুল (২২) গুরুতর আহত হন।
আহত নাজমুলকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
কি কারণে এই হত্যা তার সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে অনেকে ধারণা করছেন স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যে শিশুটিকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি মোঃ ইকরাম হোসেন জানান, শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে গণপিটুনির ঘটনাতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন