

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মাদারীপুরের শিবচরে বর্ণিল আয়োজনে বরণ করে নেওয়া হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবে গ্রামীণ লোকজ সংস্কৃতি আর আধুনিকতার এক মেলবন্ধন প্রত্যক্ষ করল শিবচরবাসী। এদিন কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং বাঙালিয়ানা আর প্রাণের উৎসবে মেতেছিল পুরো জনপদ।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে শিবচরের রাজপথে নামে উৎসবপ্রিয় মানুষের ঢল। উপজেলা চত্বর থেকে বের হওয়া বৈশাখী শোভাযাত্রায় ফুটে ওঠে আবহমান বাংলার প্রতিচ্ছবি। ঢাকের গুড়গুড় শব্দ আর বাঁশির সুরে মুখরিত হয়ে ওঠে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক। বিভিন্ন সাজে সজ্জিত হয়ে আবালবৃদ্ধবনিতা এই শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়।
শোভাযাত্রা শেষে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম ইবনে মিজান উপজেলা চত্বরে ফিতা কেটে সাতদিন ব্যাপী ঐতিহ্যবাহী 'বৈশাখী মেলা'র শুভ উদ্বোধন করেন।
এরপর শিবচর উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম ইবনে মিজান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিবচর উপজেলা সহকারী কমিশনার( ভূমি) শাইখা সুলতানা,শিবচর থানার তদন্ত কর্মকর্তা নিয়াজ মোর্শেদ , শিবচর উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল করিম, জনস্বাস্থ্য প্রোকৌশলী শামীমা নাসরীন, মৎস্য কর্মকর্তা সত্যজীৎ মজুমদার সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা বৃন্দ।
আলোচনা শেষে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। যেখানে স্হানীয় শিল্পীরা আবৃত্তি, নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন করেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান-এর গান। পেশাগত ব্যস্ততার বাইরে তাঁর সুললিত কণ্ঠে গাওয়া গান উপস্থিত দর্শকদের বিমোহিত করে। তাঁর এই শৈল্পিক উপস্থাপনা সাধারণ মানুষ ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।
এবারের আয়োজনের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী এবং প্রশংসিত অংশ ছিল গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী দাঁড়িয়াবান্ধা খেলা। বর্তমান প্রজন্মের কাছে প্রায় অচেনা হয়ে যাওয়া এই খেলাটি উপজেলা নির্বাচন অফিসের সামনে আয়োজন করা হয়। যান্ত্রিক জীবনের আড়ালে হারিয়ে যাওয়া এই লোকজ খেলাটি দেখতে সব বয়সী মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। তরুণ প্রজন্মের দর্শকদের মাঝে এই খেলাটি নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনা দেখা যায়।
উপস্থিত সুধীজনরা মনে করছেন, হারিয়ে যাওয়া এই সংস্কৃতিগুলোকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার এই উদ্যোগ ইউএনও এইচ এম ইবনে মিজানের গভীর সংস্কৃতিমনা হৃদয়েরই বহিঃপ্রকাশ।শিবচরের এই পহেলা বৈশাখ উদযাপন কেবল একটি উৎসব নয়, বরং এটি ছিল হারানো ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধারের এক বলিষ্ঠ শপথ।
এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে বৈশাখী শোভা যাত্রা ও লোকজ সংস্কৃতির আয়োজন করে।
এদিকে সন্ধ্যায় "শিবচর এন্ড ইউথ" এর উদ্যোগে স্হানীয় শিবচর নাট্যমঞ্চে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন