

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বসন্তের তপ্ত রোদে যখন নাগরিক জীবন ওষ্ঠাগত, তখন প্রমত্তা পদ্মার শীতল হাওয়ায় গা ভাসিয়ে দিনভর আনন্দে মাতলেন দেশবরেণ্য সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও মফস্বলের কলম সৈনিকরা।
ইট-পাথরের যান্ত্রিক শহর ছেড়ে প্রকৃতির অকৃত্রিম ছোঁয়ায় পদ্মার চরাঞ্চলে কাটানো এই দিনটি যেন হয়ে উঠেছিল সংবাদকর্মীদের অনন্য এক মিলনমেলায়।
‘শিবচরের সাংবাদিক পরিবার’-এর আয়োজনে শনিবার (৪ এপ্রিল) দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হলো এক বর্ণিল ‘ঈদ পুনর্মিলনী ও নৌবিহার-২০২৬’।
সকাল হতেই কাওড়াকান্দি ফেরিঘাটে জমে ওঠে প্রাণের স্পন্দন। দু'টি সুসজ্জিত ট্রলার যখন মাঝনদী অভিমুখে যাত্রা শুরু করে, তখন দিগন্তে আভিজাত্য নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা পদ্মা সেতু যেন অভিবাদন জানাচ্ছিল এই কাফেলাকে।
এই আনন্দযাত্রায় শামিল হয়েছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও কালের কণ্ঠের সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, আমার দেশ-এর নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও দৈনিক মানবকণ্ঠের সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম,ডিইউজে'র সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক জনকণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক খুরশিদ আলম, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসীন এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক মো. আবুবকর।
তাছাড়া বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক ছাড়াও শিবচর ও মাদারীপুরে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক,প্রিন্ট ও অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ এই উৎসবে অংশ নেন।
পদ্মার ঢেউ চিরে ট্রলারগুলো নোঙর করে শিবচরের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন চরজানাজাত ইউনিয়নের ‘হীরা খার বাজার’ সংলগ্ন চরে। সেখানে নদীর তীরে সামিয়ানা টানিয়ে তৈরি করা হয় এক টুকরো শান্তির নীড়। সাংবাদিকরা চরের দিগন্তজোড়া বালুচর আর নদীভাঙন কবলিত মানুষের জীবনযুদ্ধ অবলোকন করেন।
খবরের পেছনের মানুষগুলো যখন নিজেরাই খবরের খোঁজে চরের ধুলোবালি মাখেন, তখন এক ভিন্ন আবেগময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
দুপুরে চরের উন্মুক্ত প্রান্তরে আয়োজিত হয় এক সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভা। সাংবাদিক নেতারা তাদের বক্তব্যে জানান, প্রকৃতির এই সান্নিধ্য তাদের দীর্ঘদিনের কাজের ক্লান্তি দূর করে দিয়েছে। তবে আনন্দের মাঝেও উঠে আসে মফস্বল সাংবাদিকতার রূঢ় বাস্তবতা। স্থানীয় সংবাদকর্মীরা তাদের পেশাগত বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরলে জাতীয় নেতৃবৃন্দ তা সমাধানে অভিভাবকসুলভ আশ্বস্ত করেন। অনুষ্ঠান শেষে ঢাকা থেকে আগত গুণী সাংবাদিকদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
চরের বুকে তৃপ্তিদায়ক ‘ভূরিভোজ’ শেষে পুনরায় যখন ট্রলারগুলো কাওড়াকান্দির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে, তখন শুরু হয় বিনোদনের দ্বিতীয় পর্ব।
গান, আড্ডা আর স্মৃতিচারণে পদ্মার আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে ওঠে। বিকেলে ফেরিঘাটে পৌঁছে হালকা নাস্তা শেষে যখন সবাই নিজ নিজ কর্মস্থলের দিকে পা বাড়াচ্ছিলেন, তখন সবার চোখেমুখেই ছিল একরাশ তৃপ্তি।
যান্ত্রিক শহরের টানে ফিরে গেলেও, এই চরাচরের স্মৃতি যেন সবার মনে চিরস্থায়ী আসন গেড়েছে। সুযোগ পেলে আবারও প্রকৃতির এই অবারিত দুয়ারে ফিরে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করে শেষ হয় দিনভর চলা এই আনন্দ আয়োজন।
মন্তব্য করুন