

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


লালমনিরহাটে মাত্র ১০ মিনিটের ঝড়ে তিস্তা চরাঞ্চলের অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ও দোকানপাট লন্ডভন্ড হয়েছে। কৃষিতেও হয়েছে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ভোর রাতে আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের তিস্তা চরাঞ্চলের গোবর্দ্ধন স্প্যার বাঁধ এলাকায় আগাম কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানে।
স্থানীয় ও ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, ভোরে সেহরির সময় হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে যায়। এরপর ধেয়ে আসে ঝড় ও বৃষ্টি। মাত্র ১০ মিনিট তাণ্ডব চালায় ঝড়। এতে প্রায় অর্ধশতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি ও দোকানপাট লন্ডভন্ড হয়ে যায়। বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে ভেঙে গেছে ঘরবাড়ি। বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হয়েছে ঘরের আসবাবপত্র ও দোকানের মালামাল। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ। দিনভর সরবরাহ সচল করতে কাজ করছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
হঠাৎ আঘাত হানা ঝড়ে কৃষিতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন কৃষকরা। উঠতি আলু, তামাক, মিষ্টিকুমড়া, ভুট্টাসহ নানা জাতের সবজি খেত বৃষ্টির পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভুট্টা গাছ মাটিতে নুয়ে পড়েছে। আলুর খেতে বৃষ্টির পানি জমে আলু সংগ্রহে বিড়ম্বনায় পড়েছেন চাষিরা। অনেকেই আলু তুলে খেতেই রেখে দিয়েছেন। এতে ভিজে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। যেসব খেতে পানি জমেছে এবং আলু তুলতে সময় লাগবে, সেসব খেতের আলুতে দাগ পড়ার আশঙ্কা করছেন চাষিরা। আলুর মন্দা বাজারে দাগযুক্ত আলুর ক্রেতা থাকবে না। ফলে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা।
গোবর্দ্ধন চরের কৃষক সুমন বলেন, চরাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি খেতই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আলু, তামাক আর ভুট্টা খেত পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাত্র ১০ মিনিটের ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়েছে ঘরবাড়ি। অনেকেই খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। সরকারি ভাবে শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে, কিন্তু ঘরবাড়ি মেরামতের কোনো সহায়তা দেওয়া হয়নি। আলু, তামাক ও ভুট্টার খেত ঝড়-বৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে, কিন্তু কৃষি বিভাগের কেউ খোঁজ নেয়নি। এবার আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।
স্প্যার বাঁধ এলাকার বিধবা লাইলী বেগম বলেন, সেহরি খেয়ে শুয়েছিলাম, হঠাৎ জোরে বাতাস উঠলো। একটি বড় গাছ মরমর শব্দ করে ঘরের ওপর পড়ে যায়। বিছানা ছেড়ে দৌড়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে প্রাণে বেঁচে গেছি। গরিব মানুষ, খাবারই পাই না। এখন ঘরটা মেরামত করব কীভাবে? আমার তো স্বামী-সন্তান কেউ নেই।
ভুট্টু মিয়া বলেন, বড় একটি গাছ ঘরের ওপর পড়ে যায়। দৌড়ে গিয়ে দরজা কেটে পুত্রবধূ ও একমাত্র নাতিকে অক্ষত অবস্থায় বের করে এনেছি। এরপর অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। এখন ঘরটা মেরামত করার মতো টাকাও নেই।
মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মতিয়ার রহমান মতি বলেন, সেহরির সময় হঠাৎ টর্নেডোর মতো ঝড় আঘাত হানে। এতে আমাদের ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ও দোকানপাট লন্ডভন্ড হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে তা ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে পৌঁছে দেওয়া হবে।
জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এনামুল হাসান। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে পুনর্বাসনের জন্য দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। বরাদ্দ এলে তা ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে পৌঁছে দেওয়া হবে। আপাতত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন