

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ও কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের হোসেনাবাদ বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন-মণ্ডল গ্রুপের প্রধান ওয়াসিম মণ্ডল, তুষার মণ্ডল ও বেল্লাল হোসেন এবং সরদার গ্রুপের প্রধান লিটন সরদার, কামাল সরদার ও সুমন সরদার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হোসেনাবাদ এলাকায় মণ্ডল ও সরদার গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধ মীমাংসার জন্য কয়েক দফা সালিশ বৈঠক হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। এরজের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সন্ধ্যায় হোসেনাবাদ বাজারে দুই পক্ষের লোকজন মুখোমুখি হলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এসময় উভয় পক্ষের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সেখানে অবস্থান নেয় বলে স্থানীয়রা জানান। সংঘর্ষের একপর্যায়ে পরপর চারটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে এবং কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে।
সংঘর্ষে আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের পর অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শামীম মোল্লা বলেন, তারা সবাই আমাদের লোক। তাদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। গত বৃহস্পতিবার আমি দুই পক্ষকে নিয়ে বসেছিলাম। তবে সালিশে বিষয়টি পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব হয়নি। আজ শুনছি, দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়েছে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন,হোসেনাবাদ বাজারে দুই পক্ষের সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পক্ষের মামলা দায়েরের তথ্য পাওয়া যায়নি।


