

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ও দৌলতপুর উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হিসনা ও সাগরখালী নদীর পুনঃখনন কাজ চললেও নদীর দুই তীরের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হয়নি। এতে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, দখলদারদের বহাল রেখে শুধু নদীর তলদেশ খনন করলে কোটি টাকার এই প্রকল্পের সুফল মিলবে না।
স্থানী সূত্রে জানা যায়, একসময় পালতোলা নৌকা ও স্টিমার চলাচল করা হিসনা নদী এখন দখল, দূষণ ও ভরাটের কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং কৃষি, মৎস্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার লক্ষ্যে সরকার হিসনা ও সাগরখালী নদী পুনঃখননের উদ্যোগ নেয়। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীনে প্রায় ৪২ দশমিক ৫ কিলোমিটার নদীপথ পুনঃখননে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৮ কোটি টাকা। চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে। সরকারের লক্ষ্য নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে এনে কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও পরিবেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
তবে সরেজমিনে হিসনা নদীর পাড়ে গিয়ে দেখা যায়, নদীর দুই তীরজুড়ে গড়ে ওঠা অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করেই খননকাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। নদীর জায়গা দখল করে নির্মিত ভবন ও স্থাপনা দৃশ্যমান থাকলেও সেগুলোর বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
স্থানীয়দের দাবি,এসব দখলদারকে উচ্ছেদ না করে খননকাজ চালানো হচ্ছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রস্থ ও প্রবাহ ফিরে আসবে না, বরং কিছুদিনের মধ্যেই আবারও নদী ভরাট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও মনে করছেন তারা।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, নদী রক্ষায় শুধু খনন নয়, অবৈধ দখলমুক্ত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় জনগণের অর্থে বাস্তবায়িত এ প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হবে না।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম বলেন,‘অবৈধ দখলমুক্ত করেই ধাপে ধাপে হিসনা নদীর পুনঃখনন কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রকল্পের সব কার্যক্রম সরকারি নির্দেশনা ও নীতিমালা অনুসরণ করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের। তবে বিষয়টি নিয়ে আমি অফিসিয়াল ভাবে খোঁজ-খবর নিব।’
পদ্মা নদী থেকে উৎপন্ন প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ হিসনা নদী ভেড়ামারা ও দৌলতপুর হয়ে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মাথাভাঙ্গা নদীতে মিলেছে। স্থানীয় কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নদীকে টেকসইভাবে পুনরুদ্ধারে খননের পাশাপাশি অবৈধ দখল উচ্ছেদের দাবি স্থানীয়দের।