শুক্রবার
৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১০ বছর আগে সৎ মা, এবার আপন মাকে হত্যা

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৯:০১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত।
expand
ছবি : সংগৃহীত।

ফরিদপুরে মা সামেলা (সাহেলা) আক্তারকে (৬০) নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে আব্দুর রাহিম শেখ (৩৫) নামে এক মাদকাসক্ত ছেলের বিরুদ্ধে। এর এক দশক আগে সৎ মাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে কারাগারে গিয়েছিলেন রাহিম শেখ। প্রায় ছয় বছর কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুর শহরের বায়তুল আমান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত রাহিম পলাতক রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ফরিদপুর পৌরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বায়তুল আমান আব্দুর রহমান মোল্লাডাঙ্গী এলাকায় নিজ বাড়ির উঠানে দুপুর পৌনে ১টার দিকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। পরিবারের অন্য সদস্যরা বাইরে থাকায় অভিযুক্ত রাহিম শেখ ধারালো অস্ত্র ও ভোঁতা বস্তু দিয়ে মায়ের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই সামেলা আক্তারের মৃত্যু হয়। পরে প্রতিবেশীরা রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

নিহতের মেয়ে কাকলী আক্তার বলেন, তাঁর ভাই দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রায়ই মায়ের কাছে টাকা চাইতেন। টাকা না দিলে মারধর করতেন। ঘটনার দিন সকালে তিনি কাজে যাওয়ার সময় রাহিম আলাদা ঘরে ছিলেন। দুপুরে খবর পান, তাঁর ভাই মাকে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২০১৬ সালে রাহিম শেখ তাঁর সৎ মাকেও একইভাবে হত্যা করেন। ওই ঘটনায় তিনি প্রায় ছয় বছর কারাভোগ থাকাকালীন জামিনে মুক্তি পেয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন।

এরপরও তাঁর আচরণ স্বাভাবিক হয়নি। পরিবারের সদস্যদের মারধর করা, টাকা দাবি করা এবং নেশাগ্রস্ত অবস্থায় অস্বাভাবিক আচরণ করা ছিল রাহিমের নিত্যদিনের ঘটনা।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে কোতোয়ালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত দত্ত বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রাহিম তাঁর মাকে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে পালিয়ে গেছে। প্রতিবেশীরা তাঁকে মাদকাসক্ত বলে চিনেন। ছেলের কক্ষ থেকে ফয়েল পেপার, মোমবাতি, সিগারেটের প্যাকেটসহ মাদক সেবনের আলামত জব্দ করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন