

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কুষ্টিয়ার মিরপুরে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেছে পরিবার সদস্য ও স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের ছত্রগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে।
প্রাথমিক ভাবে ওই ছাত্রীর শরীর থেকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. হোসেন ইমাম।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে ওই ছাত্রী বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে যায়। সন্ধ্যা হয়ে গেলেও সে বাড়িতে ফিরে আসছিলোনা। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর রাত ৮টার দিকে পরিবারের সদস্যরা বিদ্যালয়ের যান। এসময় বিদ্যালয়ের পিয়ন হামিদুলের কাছে মেয়েটির খোঁজ জানতে চাইলে তিনি বিদ্যালয়ে কেউ নেই বলে দাবি করেন এবং চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানান। এসময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পিয়নের কথা কাটাকাটি হয়। এরপর বিষয়টি স্থানীয়রা বুঝতে পেরে সেখানে যান। এরপরেও পিয়ন চাবি দিতে রাজি না হওয়ায় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে পিয়নের সঙ্গে হাতাহাতি করে চাবি নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন তারা। সেখান থেকে ওই ছাত্রীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
পরে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। বর্তমানে ওই ছাত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল ) দুপুরে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গাইনি ওয়ার্ডের মেঝেতে ওই ছাত্রীকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা তার চারপাশে ঘিরে রেখেছে। তারা জানায় মেয়েটি কথা বলার মত অবস্থায় নেই। কিছু বলতে পারছেনা। তবে কে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে সেটিও তার পরিবারের বলতে পারছেনা।
ছাত্রীর মামা উজির আলী মন্ডল জানান,স্কুলের ২য় তালায় একটি রুমে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে আছে। সেখানে বই ও সেন্ডেল পড়ে ছিল। পরে ভ্যানে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মিরপুর থেকে কুষ্টিয়া হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম জানান,রাতে ওই শিক্ষার্থীকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। আজ সকালে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। রোগী বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত রয়েছে।
মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসাদের প্রাথমিক পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন