

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


এবার মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মত এজেন্ট সেবা ব্যাংকে চালু করতে চায় ব্যাংকের নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)। মোবাইলের মাধ্যমে আর্থিক সেবা দেওয়া যা মোবাইল ব্যাংকিং নামে পরিচিত, তার মতো করে সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের এজেন্ট নিয়োগ দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে চায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো।
এজেন্ট ব্যাংকিং নীতিমালার আরো সহজীকরণ চেয়ে একটি প্রস্তাব দিয়েছেন এবিবির নেতারা। আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে এমন দাবি করেছে এবিবি। বৈঠকে এই বিষয়টিসহ ব্যাংক খাতের আধুনিকায়নে পুরনো অনেক নীতিমালার হালনাগাদ করার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।
মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস(এমএফএস) সেবা দিতে অনুমোদিত এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো সারা দেশে চাহিদা অনুযায়ী এজেন্ট নিয়োগ দিতে পারে। সেখানে দুরত্ব বা একই এলাকায় কতোটি হতে পারবে তার কোনো সীমা নেই।
এমএফএস সেবাদাতা ব্যাংক ও নগদের মত প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই এজেন্ট নিয়োগ দিতে পারে। অন্যদিকে ব্যাংকের সরাসরি তত্ববধানে পরিচালিত এজেন্ট ব্যাংক অনুমোদন দিতে পরিচালক পর্ষদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।
নীতিমালা হালনাগাদ করে এবিবি’র পক্ষ থেকে দাবি তোলা হয়, কাগুজের নোটের ব্যবহার কমিয়ে আনা, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের খরচ সাশ্রয় ও সারা দেশে নেটওয়ার্ক স্থাপনে এমএফএস এজেন্টের মত এজেন্ট ব্যাংকিয়ের এজেন্ট নিয়োগ দেওয়ার।
বুথের বদলে অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবহার করে ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা ও পাঠানোর মত নতুন মডেলের এজেন্ট ব্যাংকিং চেয়েছে তারা। যেখানে কোনো অবকাঠামো থাকবে না। ব্যাংকের পক্ষে এজেন্ট নিয়োগ করা হবে এমএফএস এর মতো।
এজেন্টের মাধ্যমে ক্যাশ-ইন করে ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা দেওয়া যাবে। একইভাবে প্রয়োজন মোতাবেক এজেন্টের কাছ থেকে ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন করতে পারবে। এজেন্ট সেখানে কমিশন সুবিধা পাবে।
আগামী জুলাই মাস থেকে সব ধরনের লেনদেনে ‘বাংলা কিউআর’ কোডের মাধ্যমে করার বাধ্যবাধকতা আসছে। কাগুজে টাকার ব্যবহার কমানো ও দ্রুত সময়ের মধ্যে লেনদেন নিস্পত্তি করতে এ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সরকার। সেই পদক্ষেপের মধ্যে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা যোগ করতে এমএফএস এর মত মডেলে এজেন্ট ব্যাংকিং পরিচালনা করতে নীতিমালা সহজীকরণের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয় ব্যাংকারদের পক্ষ থেকে।
এবিবি চেয়ারম্যান ও বেসরকারি সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন বলেন, ‘আমাদের নিয়মিত কিছু বিষয় ছিল, তা নিয়ে আলোচনা করেছি। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে ব্যাংকগুলোর মধ্যে একটি লেবেল প্লেইং ফিল্ড করার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। এমএফএস সেবার মতো দ্রুত সেবা দেওয়ার সময় হয়েছে।'
তিনি আরো বলেন, ‘এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই ইচ্ছে মতো এজেন্ট দিতে পারছে। বর্তমান নীতিমালায় এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে সেটা সম্ভব না। এতে খরচও বেশি। আমাদের তো ডিজিটাল পেমেন্ট বাড়াতে হবে। সামনে তো বাংলা কিউআর কোড বাধ্যতামূলক হচ্ছে। এজন্য আমরা এজেন্ট ব্যাংকিং নীতিমালার সহজীকরণ চেয়েছি।’
বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার মাঝে মধ্যেই অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। ইরান যুদ্ধের বিরতির আগে চলতি সপ্তাহে কিছু ব্যাংক বাজার দরের চেয়ে বেশি দর দিয়ে প্রবাসীদের কাছ থেকে রেমিটেন্স আনা শুরু করে। তাতে বিদ্যমান বিনিময় হার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা থেকে বেড়ে ১২২টাকা ৮৫ পয়সায় চলে যায়।
কয়েকটি ব্যাংক প্রবাসী আয় এনেছে ১২৩ টাকা ৫০ পয়সা দিয়ে। এমন অভিযোগ পেয়ে বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন গভিরভাবে নজরদারি শুরু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ব্যাংকগুলোর কাছে ‘পর্যাপ্ত’ বৈদেশিক মুদ্রা রয়েছে দাবি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘোষণা দেয়, প্রয়োজনে ২০ কোটি ডলার বিক্রি করে বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার।
সভায় বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়। সেখানে বৈদেশিক মুদ্রা বাজার ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহযোগিতা চাওয়া হয় ব্যাংকারদের পক্ষ থেকে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এনপিবি নিউজকে বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতে যথেষ্ট ডলার উদ্বৃত্ত আছে। যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা হয়েছে, বৈদেশিক পেমেন্টের চাপও খুব একটা নেই। তারপরও কেউ কেউ বাড়তি দরে ডলার কেনার চেষ্টা করছে। ব্যাংকগুলোকে অতিরিক্ত দরে ডলার কেনার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে এমন গুজব ধরে নিয়ে আগাম ডলার কেনার চেষ্টা হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক হস্তক্ষেপ করবে, বিষয়টি তাদের জানানো হয়েছে। ব্যাংকাররা আশ্বস্ত করেছেন, নিয়ম মেনে ডলার লেনদেন করবেন, হস্তক্ষেপ করার মত পরিস্থিতি হবে না।’
সভায় ব্যক্তিগত ঋণ সুবিধা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা, গাড়িতে বিনিয়োগের সীমা হালনাগাদ করে ৯০ শতাংশ মার্জিন করার প্রস্তাব করে এবিবি। বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণ সুদহার বাজারের উপর ছেড়ে দেওয়া ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খেলাপী হিসেবে চিহ্নিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান নীতিমালার অব্যাহত রাখার পক্ষেও যুক্তি তুলে ধরে এবিবি।
মন্তব্য করুন