

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কামালপুর এলাকায় নদীভাঙন রোধে রোপণ করা বেড়িবাঁধের প্রায় ২০টি মেহগনি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলে সুবিধা পেতেই তাঁর বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়া বেড়িবাঁধের ওপর লাগানো গাছগুলো পরিকল্পিতভাবে ধাপে ধাপে কেটে ফেলা হয়েছে।
এতে নদীভাঙন রোধে নেওয়া সরকারি উদ্যোগ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তেমনি পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও তৎকালীন সংসদ সদস্য আবদুল হামিদ নির্বাচিত হওয়ার পর মিঠামইনের কামালপুর এলাকায় নদীভাঙন প্রতিরোধে বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়িবাঁধের ওপর লাগানো এসব মেহগনি গাছ বড় হয়ে এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে এবং ভাঙন রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এলাকাবাসীর কাছে গাছগুলো হয়ে ওঠে নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষার প্রতীক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, অভিযুক্ত বিএনপি নেতার বাড়িতে প্রবেশ করতে হলে বেড়িবাঁধের ওপর দিয়েই যেতে হয়। ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে চলাচলে গাছগুলো বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিল এমন অভিযোগ তুলে গত ৫ আগস্টের পর থেকে ধাপে ধাপে গাছ কাটা শুরু হয়।
তাদের দাবি, সর্বশেষ গত ২১ ফেব্রুয়ারি একসঙ্গে ১০ থেকে ১২টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। বৈদ্যুতিক করাত দিয়ে গাছের গুঁড়ি কেটে সেগুলো রাতের আঁধারে সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রতিটি গাছের আনুমানিক বাজারমূল্য ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এতে সরকারি সম্পদের পাশাপাশি পরিবেশগত ক্ষতিও হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই গোপনে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
অভিযোগ অস্বীকার করে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর বলেন, আমি কেন গাছ কাটবো? আমার কী দরকার আছে কাটার? জায়গা ও গাছগুলো সরকারি নয়। সবাই নিজের নিজের জায়গা থেকে গাছ কেটে নিয়েছে। বেড়িবাঁধ সরকারি না, অধিগ্রহণকৃতও না।
মিঠামইন উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী ফয়জুর রাজ্জাক বলেন, ১৯৯৫–১৯৯৬ সালে স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। সেই সময়ই গাছগুলো রোপণ করা হয়। গাছ কাটার খবর পাওয়ার পর স’মিলে গিয়ে কাটা গাছগুলো জব্দ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নিতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
মন্তব্য করুন
