

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কিডনি কেনাবেচার চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মূল হোতা জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার বহুতি গ্রামের আব্দুস সাত্তারকে (৫৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কিডনি বিক্রির জন্য ১০ লাখ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি তিনি। ‘বকেয়া’ টাকা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে আইনের আশ্রয় নেন ঐ ব্যক্তি। গ্রেফতার সাত্তার কালাই উপজেলার বহুতি গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বার খলিফার ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আর্থিক সংকটে থাকা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের মন্টু মিয়াকে টার্গেট করে কিডনি বিক্রির জন্য ১০ লাখ টাকার প্রলোভন দেখানো হয়। গত জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে তাকে অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরে তাকে নেপালের একটি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি কিডনি নেওয়া হয়। দেশে ফেরার পর চুক্তি অনুযায়ী বাকি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাইলে সাত্তারসহ অন্য দালালরা তা দিতে টালবাহানা করেন। প্রতিশ্রুত টাকা না পেয়ে গত ১৩ জুন মন্টু মিয়া জয়পুরহাট আমলি আদালতে মামলা করেন।
মামলায় বগুড়া সদর উপজেলার নিশিন্দারা গ্রামের সাব্বির আহমেদ, শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক মল্লিকপাড়া গ্রামের সুমন আলী, কালাই উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নান ও সাইদুর রহমান, লওনা গ্রামের আব্দুস সাত্তার এবং নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছোট হোসেনপুর রাজাগঞ্জ এলাকার তারেক আজম ওরফে বাবলু চৌধুরীকে আসামি করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কালাইয়ে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় কিডনি কেনাবেচার দালালচক্র দরিদ্র, ঋণগ্রস্ত ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষকে টার্গেট করে। প্রশাসনের কড়া নজরদারির কারণে গত কয়েক বছর এদের কার্যক্রম কমে গেলেও গত এক বছর ধরে চক্রটি আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয়ভাবে কালাই উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের ভেরেন্ডি, উলিপুর, সাতার, কুসুমসাড়া, অনিহার, ভাউজাপাতার, পাইকশ্বর ও ইন্দাহার; উদয়পুর ইউনিয়নের তালোড়া-বাইগুনি, বহুতি, মোহাইল, থল, বাগইল, মাস্তর, জয়পুর বহুতি, নওয়ানা বহুতি, দুর্গাপুর, উত্তর তেলিহার, ভুষা, কাশিপুর, দুধাইল, বিনইল ও পূর্বকৃষ্টপুর; আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের রাঘবপুর, বোড়াই, হারুঞ্জা, নওপাড়া ও বালাইট গ্রাম কিডনি কেনাবেচার সঙ্গে আলোচনায় এসেছে।
এ ছাড়া কালাই পৌরসভার আঁওড়া, থুপসারা, সিতাহার ও দুরুঞ্জ-নয়াপাড়া মহল্লা, জিন্দারপুর ইউনিয়নের এলতা, ইমামপুর, বেগুনগ্রাম, করিমপুর ও হাজিপুর-ঘাটুরিয়া এবং পুনট ইউনিয়নের জালাইগাড়ী, পাঁচগ্রাম, জগডুম্বর ও শান্তিনগর এলাকাতেও এ চক্রের তত্পরতার অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন, ১৯৯৯-এর ৯ ধারায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ। এই অপরাধে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
কালাই থানার ওসি (তদন্ত) দীপেন্দ্র নাথ সিংহ জানান, সাত্তারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


