শনিবার
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্ত্রীর কিডনি দানে নতুন জীবন পেলেন স্বামী, ভালোবাসার কাছে হার মানল মৃত্যুর ভয়

যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand

সংসারের অভাব-অনটন দূর করে সুখে থাকার স্বপ্ন নিয়ে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন যশোর সদরের কচুয়া গ্রামের আল-আমিন।

কিন্তু বিদেশে যাওয়ার মাত্র দুই বছরের মাথায় তার জীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ। একে একে বিকল হয়ে যায় তার দুটি কিডনি। চিকিৎসা ও ডায়ালাইসিসের ব্যয় মেটাতে জমানো অর্থ শেষ হয়ে যায়। শারীরিক অবস্থার অবনতিতে একসময় অনিশ্চিত হয়ে পড়ে তার জীবন।

এমন সংকটময় সময়ে স্বামীর পাশে দাঁড়ান স্ত্রী আসমা খাতুন। স্বজনদের মধ্যে কারও না মেলায় এবং কেনার সামর্থ্য না থাকায় শেষ পর্যন্ত নিজের একটি কিডনি স্বামীকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, যশোর শহরের আরএন রোডের একটি জুতার দোকানে কাজ করতেন আল-আমিন। স্বল্প আয়ে সংসারের অভাব দূর করতে কয়েক বছর আগে মালয়েশিয়ায় যান। সেখানে অবস্থানকালে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, তার দুটি কিডনিই বিকল হয়ে গেছে এবং নিয়মিত ডায়ালাইসিস প্রয়োজন।

চিকিৎসার ব্যয় চালাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে পরিবারটি। এর মধ্যে স্বামীর জন্য কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন দেখা দিলে স্বজনদের মধ্যে উপযুক্ত দাতা খুঁজেও পাওয়া যায়নি। তখন নিজের জীবন ও শারীরিক ঝুঁকির কথা জেনেও স্বামীকে কিডনি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন আসমা।

পরবর্তীতে চিকিৎসকদের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আসমার একটি কিডনি আল-আমিনের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন আল-আমিন। নতুন করে জীবন ফিরে পাওয়ার পেছনে স্ত্রীর এই ত্যাগকে জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া বলে মনে করছেন তিনি।

আসমা খাতুন বলেন, ‘স্বামীকে বাঁচানোর জন্য নিজের একটি কিডনি দিতে আমার কোনো দ্বিধা করিনি।’

কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে থাকাই দাম্পত্য জীবনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব বলেও মনে করেন তিনি।

তবে, অস্ত্রোপচারের পর জীবন ফিরে পেলেও স্বস্তিতে নেই আল-আমিনের পরিবার। প্রতিমাসে তার নিয়মিত ওষুধ, চিকিৎসা ও অন্যান্য খরচ বহন করতে হিমশিম খাচ্ছে পরিবারটি। আর্থিক সংকটের কারণে ভবিষ্যৎ চিকিৎসা নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank