

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


যশোরের অভয়নগরের আলোচিত ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান হত্যা মামলার প্রধান আসামি শাহ মাহমুদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের ১২ দিনের মাথায় রোববার দিবাগত রাতে যশোর শহরের আরএন রোড এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, গ্রেফতার এড়াতে তিনি ভারতে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
সোমবার দুপুরে যশোর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলাম জানান, অভয়নগর থানা, ডিবি ও সাইবার ক্রাইম ইউনিটের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি, গোপন সংবাদ ও বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়।
গ্রেফতার শাহ মাহমুদ নওয়াপাড়া পীরবাড়ি এলাকার শাহ জোনায়েদের ছেলে। পুলিশ জানায়, ব্যবসায়ী আনিছুর রহমানের দোকান ভাড়া সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। তবে এর পেছনে আরও কারণ থাকতে পারে, যা তদন্ত শেষে জানা যাবে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মুকিত নামের এক আইনজীবীর সহায়তায় শাহ মাহমুদ ভারতে পালানোর পরিকল্পনা করছিলেন। এজন্য তাকে যশোর শহরের একটি বাসায় গোপনে রাখা হয়েছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা এবং পালানোর পরিকল্পনার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ৬ মে সন্ধ্যায় অভয়নগর থানার গুয়াখোলা পীরবাড়ি মসজিদের পশ্চিম পাশে নিজের নির্মাণাধীন ছয়তলা ভবনের নিচতলায় বসেছিলেন ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান। এ সময় শাহ মাহমুদ, তার সহযোগী নাসিরসহ আরও ২-৩ জন সেখানে যায়। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে শাহ মাহমুদ কোমরে থাকা ধারালো চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আনিছুর রহমানের মুখের বাম পাশে কোপ দেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ৭ মে রাত ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের পর প্রধান আসামি শাহ মাহমুদ আত্মগোপনে চলে যান। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নাহিদা ইমাম বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর আগে মামলার আরেক আসামি মনির হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ সার্কেল) মুন্না বিশ্বাস ও অভয়নগর থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।