

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জেলা রেজিস্ট্রি অফিসের শতবর্ষী পুরনো ভবনে আগুনে পুড়ে যাওয়া কাগজপত্রকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে তালাবদ্ধ, বিদ্যুৎহীন ভবনে কীভাবে আগুন লাগলো—সে প্রশ্নে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ‘পরিকল্পিত নাশকতা’ ও একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।
গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০ টার দিকে যশোর জেলা রেজিস্ট্রি অফিসের পরিত্যক্ত পুরনো ভবনে হঠাৎ আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকাণ্ডে বালাম বই, ভলিউম বুক, টিপবইসহ বিপুল পরিমাণ পুরনো কাগজপত্র পুড়ে যায়।
জেলা রেজিস্ট্রার আবু তালেব দাবি করেন, ব্রিটিশ আমলে নির্মিত ভবনটি ২০০০ সালেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। সে সময় গুরুত্বপূর্ণ সব দলিলপত্র নতুন ভবনে স্থানান্তর করা হয়েছে। পুরনো ভবনে থাকা কাগজপত্র ‘গুরুত্বপূর্ণ নয়’। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, কীভাবে আগুন লাগলো—তা তিনি জানেন না। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের একাংশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পুরো ঘটনাটি রহস্যজনক। তাদের দাবি, ওই ভবনকে ঘিরে একটি সক্রিয় চক্র রয়েছে, যাদের ‘এক্সট্রা মোহরার’ নামে ডাকা হয়। অভিযোগ রয়েছে—টাকার বিনিময়ে তারা বালাম বইয়ে ঘষামাজা করে জমির দাগ নম্বর ও পরিমাণ পরিবর্তন করে সুবিধা দেওয়ার কাজ করে থাকে। নির্দিষ্ট কোনো নথি ধ্বংস করতেই পরিকল্পিতভাবে ভবনের একটি কক্ষে আগুন দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
সূত্র জানায়, ভবনের মূল ফটকে সব সময় তালা দেওয়া থাকে। কর্মকর্তাদের অনুমতি ছাড়া সেখানে প্রবেশ নিষেধ। ভবনের ভেতরেও আলাদা করে দরজা বন্ধ থাকে এবং সেখানে কোনো বৈদ্যুতিক সংযোগ নেই। ফলে শর্ট সার্কিটে আগুন লাগার সম্ভাবনাও নেই। এসব প্রশ্নই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে।
তবে জেলা রেজিস্ট্রার আবারও বলেন, ‘ওই ভবনে দরকারি কিছুই নেই। তবুও পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস তদন্ত করবে।’
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং জেলা রেজিস্ট্রারকে খোঁজখবর নিয়ে বিস্তারিত জানাতে বলা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
