

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে অনিয়ম ও সরকারি অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের এক মাসের মধ্যেই প্রকল্পের অব্যয়িত ১৯ লাখ ৩২ হাজার ৮৩৯ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলার কালিয়াদারা-তেঘরিয়া ও সাতাউক খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ব্যয় সাশ্রয়ের মাধ্যমে এ অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন উপজেলা ইউএনও সৈয়দ মুরাদ ইসলাম।
এর আগে গত ২৪ জুন এনপিবি নিউজে ‘লাখাইয়ে খাল পুনঃখনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত দাবি’ শিরোনামে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা অসঙ্গতি, শ্রমিক উপস্থিতি, কর্মদিবসের গরমিল, কাজের অগ্রগতি নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার প্রশ্ন তুলে ধরা হয়েছিল। সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে মুড়িয়াউক ইউনিয়নের কালিয়াদারা-তেঘরিয়া খাল ও সাতাউক খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, কালিয়াদারা-তেঘরিয়া খাল পুনঃখনন প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ১ কোটি ৩০ লাখ ৩ হাজার ৬৯০ টাকা এবং সাতাউক খাল পুনঃখনন প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ কোটি ২৮ লাখ ৮ হাজার ৫৩৭ টাকা।
দুটি প্রকল্পে মোট বরাদ্দের বিপরীতে ২ কোটি ৩২ লাখ ৬ হাজার ৮৮৮ টাকা ব্যয় হয়েছে। অবশিষ্ট ১৯ লাখ ৩২ হাজার ৮৩৯ টাকা সরকারি বিধি অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, তেঘরিয়া প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার এবং সাতাউক খালে প্রায় ৪ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার পুনঃখনন করা হয়েছে। কালিয়াদারা-তেঘরিয়া প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২৪ এপ্রিল এবং সাতাউক খালের কাজ শুরু হয় ১০ মে। উভয় প্রকল্পের কাজ শেষ হয় ২৮ জুন ২০২৬।
প্রশাসনের দাবি, প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে নিয়মিত তদারকি, ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং পরিকল্পিত বাস্তবায়নের মাধ্যমে কম খরচে মানসম্মত কাজ সম্পন্ন হওয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হয়েছে।
তবে এর আগে প্রকাশিত এনপিবি নিউজের প্রতিবেদনে উঠে আসে ভিন্ন চিত্র। সেখানে স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় প্রকল্পে কাগজে-কলমে নির্ধারিত সংখ্যক শ্রমিক দেখানো হলেও বাস্তবে অনেক কম শ্রমিক কাজ করেছেন।
অনেকের নামে উপস্থিতি দেখিয়ে অন্য ব্যক্তি কাজ করেছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। এছাড়া প্রকল্প সভাপতি ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বক্তব্যে শ্রমিকের কর্মদিবস ও কাজের অগ্রগতি নিয়ে অসঙ্গতিও পাওয়া যায়।
সরেজমিনে তখন দেখা যায়, একটি খালে কাজ বন্ধ থাকলেও অন্য প্রকল্পের সভাপতি কাজ চলমান দাবি করেন। আবার মাঠে উপস্থিত নারী শ্রমিকরা জানান, সকালে কাজে গিয়ে কিছু সময় পরই তাদের বাড়ি ফিরে যেতে বলা হয়।
একজন নারী শ্রমিক স্বীকার করেন, তিনি তার স্বামীর পরিবর্তে কাজ করছেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাও সে সময় একজনের পরিবর্তে অন্যজন কাজ করার বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন।
অন্যদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল শুরু থেকেই প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছিল।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম রাকিব বলেন, নিয়মিত তদারকি এবং পরিকল্পিতভাবে কাজ বাস্তবায়নের কারণেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মত কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যয় শেষে অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
মুড়িয়াউক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নোমান মিয়া বলেন, শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রেখে যথাসময়ে এবং সরকারি বিধি অনুসরণ করে খাল পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মুরাদ ইসলাম বলেন, সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। তাই প্রতিটি প্রকল্পে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সর্বোচ্চ ব্যয় সাশ্রয় নিশ্চিত করে কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যয় শেষে যে অর্থ অবশিষ্ট ছিল, তা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এনপিবি নিউজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রকল্পের হিসাব চূড়ান্ত করে অব্যয়িত ১৯ লাখ ৩২ হাজার ৮৩৯ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার তথ্য জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
তবে সংবাদ প্রকাশ এবং অর্থ ফেরতের মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্কের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।