

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার আদিত্যপুর ও আরিছপুর (আব্দাফৌজদা) গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে চলাচলের রাস্তা নিয়ে সংঘর্ষে দুইজন নিহত হওয়ার পর পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গ্রেপ্তার এড়াতে দুই গ্রামের অধিকাংশ পুরুষ বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় গ্রাম দুটিতে পুরুষশূন্য পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুর ও সন্ধ্যায় দুই দফায় সংঘটিত সংঘর্ষে আদিত্যপুর গ্রামের সেলু মিয়া (৫৩) ও হেলাল মিয়া (৩৭) নিহত হন। এ ঘটনায় অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পর রাতেই বাহুবল মডেল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে আরিছপুর (আব্দাফৌজদা) গ্রামের মৃত আব্দুল বশিরের ছেলে আব্দুল মজিদকে (৩৫) আটক করে। পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল থেকে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টহল জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে নতুন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা লুটপাটের খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আদিত্যপুর গ্রামের মোসাহিদ মেম্বার এবং আরিছপুর গ্রামের নাসির ও আক্তার পক্ষের মধ্যে দুই গ্রামের মধ্যবর্তী একটি কথিত কবরস্থানের পাশের চলাচলের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জের ধরেই সোমবার দুপুরে দুই গ্রামের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে সন্ধ্যায় স্থানীয় ডুবাঐ বাজার এলাকায় আবারও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয় এবং এতে দুইজন নিহত হন।
নিহতদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের মাতম বিরাজ করছে। স্বজনরা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
বাহুবল মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. ইকতার মিয়া জানান, নিহত সেলু মিয়ার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং মঙ্গলবার বাদ মাগরিব তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অপরদিকে নিহত হেলাল মিয়ার মরদেহ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “গ্রেপ্তার আতঙ্কে দুই গ্রামে পুরুষশূন্য অবস্থা বিরাজ করছে। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”