

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হবিগঞ্জ-৪ আসনের মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলার ২৪টি চা বাগানের মধ্যে ৯টিতে এখনো নেই কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেও ফল না পেয়ে ক্ষুব্ধ চা শ্রমিকরা প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জানা গেছে, বিদ্যালয়বিহীন বাগানগুলোর মধ্যে ৮টি চুনারুঘাট উপজেলায় এবং ১টি মাধবপুর উপজেলায় অবস্থিত। এসব বাগান হলো—চন্ডীছড়া, রামগঙ্গা, চাকলাপঞ্জি, চাঁনপুর-জোয়ালভাঙ্গা, জঙ্গলবাড়ি, হাতিমারা, দেউন্দী, লস্করপুর ও বৈকুণ্ঠপুর চা বাগান।
এসব বাগানে বসবাসরত হাজার হাজার শ্রমিক পরিবারের শিশুরা আজও সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। কোথাও কোথাও নামমাত্র বেসরকারি বা বাগান কর্তৃপক্ষ পরিচালিত বিদ্যালয় থাকলেও সেখানে নেই পর্যাপ্ত শিক্ষক ও মানসম্মত শিক্ষা পরিবেশ। ফলে অনেক শিশুই প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার আগেই ঝরে পড়ছে এবং বাড়ছে নিরক্ষরতার হার।
চা শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি—তাদের বাগানগুলোতে দ্রুত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হোক। তাদের মতে, মানসম্মত শিক্ষা প্রতিটি শিশুর মৌলিক অধিকার; এই অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বৈকুণ্ঠপুর চা বাগানের শ্রমিক রনজিত কুমার বলেন, “সরকারি স্কুলে এখন শিশুদের জন্য খাবার দেওয়া হয়। কিন্তু আমাদের বাগানে কোনো সরকারি বিদ্যালয় না থাকায় আমাদের সন্তানরা সেই সুযোগ পাচ্ছে না। যে একটি নামমাত্র স্কুল আছে, সেখানেও কার্যকর শিক্ষা নেই।”
হবিগঞ্জ-৪ আসনের স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এস এ সাজন বলেন, “৯টি বাগানে স্কুল না থাকা দীর্ঘদিনের সমস্যা। নতুন সংসদ সদস্যের কাছে প্রত্যাশা, তিনি বিষয়টি সংসদে তুলে ধরে প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন।”
তিনি আরও বলেন, “মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের একটি গ্রামেই দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে, অথচ চা বাগানগুলো চরম অবহেলায় পড়ে আছে।”
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিও) মো. শাহ আলম জানান, “আমাদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে উচ্চ পর্যায়ের সদিচ্ছা ছাড়া এটি বাস্তবায়ন কঠিন। আমরা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।”
চা শ্রমিকদের দাবি, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে এসব বাগানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হোক, যাতে তাদের সন্তানরাও সমানভাবে শিক্ষার অধিকার পায়।
মন্তব্য করুন