

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গোপালগঞ্জে এখন ৪২ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১০ মাস বয়সের এক কন্যাশিশু হামের উপসর্গে মারা গেছে। এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া ৩০ শিশুর নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে মুকসুদপুরে ১টি শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। হামে আক্রান্ত ওই শিশুসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩০ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে ৭ শিশু গোপালগঞ্জ ২৫০ বেড জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া ওই উপসর্গে মুকসুদপুর ১০০ বেড হাসপাতালে ৫ শিশু ভর্তি রয়েছে।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জে হাম শনাক্তের কোনো পরীক্ষাগার নেই। এ কারণে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে। একটি নমুনা পরীক্ষা করতে সাধারণত ৭২ থেকে ৯৬ ঘণ্টা সময় লাগে। তবে পরীক্ষাগারে সারাদেশের নমুনার জট সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে রিপোর্ট পেতে ৭ দিনেরও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আবু সাইদ মোহাম্মদ ফারুক এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশে জেলা পর্যায়ে হাম শনাক্তের কোনো ল্যাব নেই। তাই হামের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে। তবে হামের উপসর্গ সরাসরি প্রকাশ পায়। প্রাথমিক শনাক্তে ল্যাবের প্রয়োজনও হয় না। আর ল্যাব না থাকায় চিকিৎসা দিতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।
ওই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আরও বলেন, জেলার সব সরকারি হাসপাতালে হামের লক্ষণ নিয়ে কোনো রোগী আসলে দ্রুত চিকিৎসা দিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দ্রুত নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানোর পাশাপাশি বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি। গোপালগঞ্জে শিশুদের হামসহ ১১টি রোগের পর্যাপ্ত টিকা মজুদ রয়েছে। হাম নিয়ন্ত্রণে আগামী রোববার থেকে গোপালগঞ্জে হামের টিকা প্রয়োগ করা হবে।
উল্লেখ্য, জেলার মুকসুদপুর উপজেলার টেংরাখোলা ইউনিয়নের হোগলাডাঙ্গা গ্রামের তুহিন শেখের তৃতীয় সন্তান ১০ মাসের তুবা ইসলাম তোহা গত ১৯ মার্চ জ্বরে আক্রান্ত হয়। পরে শ্বাসকষ্ট ও শিশুটির সারা শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেয়। গত ২৭ মার্চ তুবা ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এরপরই নড়েচড়ে বসে গোপালগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগ। পরে সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে চিকিৎসক দল তোহার বাড়ি পরিদর্শন করে। তারা এ ব্যাপারে খোঁজখবর নেন। সেই সঙ্গে আশপাশের গ্রামের তথ্য সংগ্রহ করে সিভিল সার্জন শিশুদের শরীরে হামের টিকা প্রয়োগের নির্দেশ দেন।
মন্তব্য করুন