

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গাজীপুরের জয়দেবপুরে ডোবার পানিতে ব্রিফকেস ও প্লাস্টিকের বস্তায় ভাসমান খণ্ডিত নারীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পিবিআই।
নিহতের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যায় ব্যবহৃত বটি দা, নিহতের এনআইডি কার্ড, মোবাইল ফোন ও জুতা।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাজীপুরের পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রকিবুল আক্তার।
তিনি জানান, গত ১১ সেপ্টেম্বর জয়দেবপুরের ভবানীপুর এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে খালের পানিতে পাওয়া যায় ব্রিফকেস ও প্লাস্টিকের বস্তা। এর ভেতর ছিল এক নারীর খণ্ডিত ও অর্ধগলিত মরদেহ।
অজ্ঞাত এই নারীর পরিচয় ও হত্যার রহস্য উদঘাটনে ছায়া তদন্ত শুরু করে পিবিআই। তথ্যপ্রযুক্তি, ক্রাইমসিন বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একপর্যায়ে শনাক্ত হয় নিহতের পরিচয়।
তিনি ৩০ বছর বয়সী ডলি আক্তার। জয়দেবপুরের বানিয়ারচালা এলাকায় ভাড়া বাসায় একাই থাকতেন তিনি।
পিবিআই বলছে, ডলির সঙ্গে মিশন ইসলামের প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে মিশনের ভাড়া বাসায় যান ডলি। সেখানে মিশন, তার মা বানু আক্তার ও ডলি একসঙ্গে খাবার খান। পরে বানু পাশের কক্ষে গেলে ডলিকে ঘুমের ও অ্যালার্জির ওষুধ খাওয়ায় মিশন। পিবিআইয়ের দাবি, ডলি ঘুমিয়ে পড়ার পর রাত আনুমানিক দুইটার দিকে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়।
পরদিন মরদেহ গুম করতে স্যুটকেস কেনে মিশন। মরদেহ স্যুটকেসে না ধরায় বটি দা ও ব্লেড দিয়ে কোমর থেকে দ্বিখণ্ডিত করা হয়। এক অংশ স্যুটকেসে এবং অন্য অংশ প্লাস্টিকে মুড়িয়ে বস্তায় রাখা হয়। পরে বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টনের সহায়তায় স্যুটকেস ও বস্তা অটোরিকশায় করে ভবানীপুর এলাকায় নিয়ে খালের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় ১২ সেপ্টেম্বর মিজানুর রহমান মিল্টন, মিশন ইসলাম ও তার মা বানু আক্তারকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মিশনের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় হত্যায় ব্যবহৃত বটি দা, স্কচটেপের অবশিষ্টাংশ, ডলির এনআইডি কার্ড, মোবাইল ফোন ও এক জোড়া জুতা।

