

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আজ ১৯ জুলাই বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কথাশিল্পী, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১২ সালের এই দিনে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের বেলভিউ . হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির অঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা আজও অপর্ণা নিও ।
১৯৭২ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম উপন্যাস নন্দিত নরকে পাঠকমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলে। এরপর ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত শঙ্খনীল কারাগার তাঁকে বাংলা সাহিত্যের একজন শক্তিশালী ও স্বতন্ত্র লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। সহজ-সরল ভাষা, জীবন্ত চরিত্র নির্মাণ এবং মানবজীবনের গভীর অনুভূতিকে অসাধারণ দক্ষতায় তুলে ধরার কারণে তিনি কোটি পাঠকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন।
উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, বিজ্ঞান কল্পকাহিনি ও শিশুতোষ সাহিত্য—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ছিল অনন্য অবদান। পাশাপাশি চলচ্চিত্র নির্মাণেও তিনি সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ হুমায়ূন আহমেদ একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, লেখকশিবির পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন পদকসহ দেশ-বিদেশের বহু সম্মাননা লাভ করেন।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য সংগঠন নানা কর্মসূচির মাধ্যমে এই কিংবদন্তি লেখককে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে হুমায়ূন আহমেদের অবদান চিরকাল প্রজন্ম থেকে প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।
আজ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রয়াত লেখকের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন দুই ছেলে নিষাদ ও নিনিতকে সঙ্গে নিয়ে নুহাশপল্লীতে এসে হুমায়ূন আহমেদের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়ায় অংশ নেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মেহের আফরোজ শাওন বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদ আমাদের ছেড়ে গেছেন ১৪ বছর হলো। নুহাশপল্লীর কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পরিবারের সদস্যরাই প্রতি বছর তার জন্মদিন ও মৃত্যুবার্ষিকীর আয়োজন করে থাকি।
হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের সংগ্রহশালা বা লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করার বিষয়ে মেহের আফরোজ বলেন, ‘নুহাশপল্লীতে (লাইব্রেরি) আছে, আরও কয়েকটি জায়গায় লাইব্রেরি আছে। সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত লাইব্রেরি এখনো করা হয়নি। আমরা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত লাইব্রেরি করার জন্য কয়েকবার চেষ্টা করেছিলাম। অনেকে বই নেয়, বই ফেরত দেয় না। হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের প্রথম প্রকাশিত কপিও ছিল, সেগুলো যখন কেউ শার্টের ভেতরে করে নিয়ে চলে যায়, তখন আসলে খুব কষ্টের ব্যাপার হয়। তাই তাঁর বইয়ের সংগ্রহ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা এখনো আর আপাতত নেই।’
নুহাশপল্লীতে আগত দর্শনার্থীরা বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদ কেবল একজন লেখক নন, তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের এক অনন্য নাম। তার উপন্যাস, নাটক, চলচ্চিত্র এবং কালজয়ী চরিত্রগুলো নতুন প্রজন্মকেও সমানভাবে আকৃষ্ট করছে। তাই তিনি তার সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়েই মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন।’
উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ূন আহমেদ। তার বাবা শহীদ পুলিশ কর্মকর্তা ফয়েজুর রহমান আহমেদ এবং মা আয়েশা ফয়েজ। দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার ইচ্ছা অনুযায়ী গাজীপুরের নুহাশপল্লীতেই তাকে সমাহিত করা হয়। মৃত্যুর এক যুগেরও বেশি সময় পরও তার সাহিত্য, নাটক ও চলচ্চিত্র কোটি মানুষের ভালোবাসায় সমানভাবে উজ্জ্বল হয়ে আছে।