শনিবার
১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুকুর ছাগলের অবিশ্বাস্য দোস্তি করে অদ্ভুত যান তৈরী

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪০ পিএম
কুকুর ছাগলের অবিশ্বাস্য দোস্তি করে অদ্ভুত যান তৈরী
expand
কুকুর ছাগলের অবিশ্বাস্য দোস্তি করে অদ্ভুত যান তৈরী

প্রকৃতির নিয়মে কুকুর আর ছাগলের সম্পর্ক অনেকটা আদায়-কাঁচকলায়। পাড়ামহল্লায় ছাগল দেখলে কুকুরের তেড়ে আসা কিংবা ছাগলের ভয়ে পালানোর দৃশ্যই চিরচেনা। কিন্তু সেই চিরশত্রুতা ভুলে কুকুর আর ছাগল এখন একে অপরের পরম বন্ধু, এমনকি তারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছে আস্ত একটি গাড়ি! অবিশ্বাস্য মনে হলেও এমনই এক অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখা যাচ্ছে গাজীপুরের কোনাবাড়ী-কাশিমপুরের ভারেন্ডা এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সোবহান তার শখ আর অদম্য প্রচেষ্টায় এই দুই প্রাণীকে দিয়ে তৈরি করেছেন এক আজব গাড়ি। ​ ​কথায় আছে,শখের তোলা আশি টাকা। আব্দুস সোবহান যেন সেই প্রবাদের জীবন্ত উদাহরণ। তিনি দামী গাড়ি বা হাতি-ঘোড়া পোষেননি, বরং তার মায়ার জাদুতে বশ করেছেন ভিন্ন প্রজাতির দুই প্রাণীকে। দীর্ঘদিনের ধৈর্য আর মমতায় তিনি কুকুর ও ছাগলকে এমনভাবে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন যে, তারা এখন একে অপরের খেলার সঙ্গী। বনের বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খাওয়ার গল্প আমরা উপকথায় শুনলেও, সোবহান মিয়ার কুকুর আর ছাগলকে একসাথে গাড়ি টানতে দেখা যায় বাস্তবেই। ​ ​সোবহান মিয়ার উদ্ভাবিত এই গাড়িটি মূলত একটি বিশেষ কায়দায় তৈরি তিন চাকার কাঠামো। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই গাড়িটি বানাতে তার ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। তবে এই গাড়ির সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো এর কোনো যান্ত্রিক ইঞ্জিন নেই।

গাড়ির সামনের অংশে জোয়াল বা বিশেষ বেল্টের মাধ্যমে যুক্ত থাকে একটি কুকুর এবং একটি ছাগল। তারাই এই গাড়ির মূল চালিকাশক্তি। ​ সোবহান মিয়ার বিশেষ সংকেত বা ইশারা পাওয়া মাত্রই প্রাণী দুটি সুশৃঙ্খলভাবে সামনের দিকে হাঁটা শুরু করে। আর পেছনের আসনে চালকের আসনে বসে রাজার হালে ঘুরে বেড়ান উদ্ভাবক সোবহান নিজে।​যখনই তিনি এই আজব গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হন, এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। যান্ত্রিক এই ব্যস্ত যুগে যান্ত্রিক কোনো আওয়াজ ছাড়াই কুকুর-ছাগলের এই গাড়ি দেখে রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে যান ছোট-বড় সব বয়সী মানুষ। সবার মুখে ফুটে ওঠে এক চিলতে হাসি। স্থানীয়দের কাছে এটি এখন বিনোদনের অন্যতম খোরাক।আল আমিন নামের এক ব্যক্তি জানান, আমরা প্রতিনিয়ত দেখি সোবাহান মিয়ার এই আজব গাড়ী।এর আগেও সে একটি আজব সাইকেল তৈরী করেছিলো।সেটি নিয়েও মাঝে মাঝে ভের হন রাস্তায়।আমরা দেখে আনন্দ পাই। ​ ​আব্দুস সোবহানের জন্য এই ধরনের উদ্ভাবন এটিই প্রথম নয়। এর আগে তিনি একটি হেলিকপ্টার সাইকেল’ তৈরি করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলেন। আর্থিক অনটন কিংবা বয়সের ভার,কোনো কিছুই তার এই সৃজনশীল শখের পথে বাধা হতে পারেনি। এলাকার কেউ কেউ তাকে কিছুটা খ্যাপাটে বা পাগল বলে আখ্যায়িত করলেও সোবহান তাতে বিচলিত নন।

আব্দুস সোবাহান বলেন, মানুষকে আনন্দ দিতে পেরে আমি নিজে আনন্দ পাই, এটাই আমার বড় তৃপ্তি।আর তাই দীর্ঘদিন পোষ মানিয়ে ছাগল আর কুকুর দিয়ে গাড়ী তৈরী করেছি।আমি মনে করি যদি সবাই কুকুরকে ভালবাসতো আমার মত যত্ন করতো তবে রাস্তায় খাবারের অভাবে কিংবা নোংরা পরিবেশে কোন কুকুর থাকতো না।

​সোবহান মিয়ার এই উদ্ভাবন প্রমাণ করে যে, প্রাণীদের প্রতি ভালোবাসা আর সঠিক প্রশিক্ষণ থাকলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। তার এই অদ্ভুত যানটি এখন কাশিমপুর ছাড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন