

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ফরিদপুরের সদরপুরে মাত্র ১৫ মিনিটের প্রচণ্ড কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা। বুধবার (১৩ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আঘাত হানা এই ঝড়ে গাছপালা উপড়ে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কৃষি ও যাতায়াত ব্যবস্থায় ব্যাপক ক্ষতি বয়ে এনেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝড়ের তীব্রতায় উপজেলা পরিষদের ভেতরে থাকা ৪৫ বছরের পুরনো রেইনট্রি ও মেহগনি গাছের বিশাল ডাল ভেঙে পড়ে ভেতরের রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে।
এছাড়া উপজেলার সতেররশি, আটরশি, চরডু বাইলসহ বিভিন্ন গ্রামে বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে অসংখ্য ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। মধ্যপাড়ার এক বাসিন্দা জানান, তার বসতঘর ভেঙে যাওয়ায় চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব সামগ্রী ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। গ্রামগুলোতে গাছ পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি রাস্তাঘাট ব্লক হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থবির হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয়রা জানান, আল আমীন ও পলাশের মতো প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে -গত ১৫ বছরেও তারা এমন বিধ্বংসী ঝড় দেখেননি।ঝড়ে গাছ পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্যাটারিচালিত অটো-পরিবহন।
অটোচালক গিয়াস জানান, চলন্ত অবস্থায় বড় ডাল পড়ে তার অটোর সামনের অংশ চুরমার হয়ে গেছে। কৃষি খাতের ওপর ঝড়ের প্রভাব পড়েছে মিশ্রভাবে।
সতেররশি গ্রামের কৃষক জাফর খান ও ২২ রশির কৃষক সায়েদ জানান, ঝোড়ো বাতাসে তাদের বিঘার পর বিঘা পাকা ধান জমির সাথে মিশে গেছে। এছাড়া আম ও লিচুরও ব্যাপক ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।বর্তমানে স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তার ডালপালা কেটে যাতায়াত স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও সর্বস্ব হারানো সাধারণ মানুষ এই অপূরণীয় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ ও আর্থিক সহযোগিতা দাবি করেছেন।
উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, "যাদের ক্ষেতে এখনও পাকা ধান ও ভুট্টা রয়েছে, তাদের ব্যাপক ক্ষতি হবে। তবে এই বৃষ্টি পাট চাষিদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।"